পঞ্চগড়ে একজন কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহ ও তাঁর ভাইয়ের কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়ে না পাওয়ায় নুরুল্লাহ ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে গেলে প্রতিবেশী মো. আলম ডাকাতির পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পবিত্র ওমরাহর উদ্দেশ্যে নুরুল্লাহ বাড়িতে না থাকায় মুখোশ পরা একদল ডাকাত ঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা নগদ টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি ডাকাতির মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন করে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকার মজিবর রহমান (৩৫), পশ্চিম মাধইপাড়া এলাকার রমজান আলী (৩০), জুগিভিটা এলাকার সাদ্দাম হোসেন (৩০), রাজমহল পূর্ব বাগান এলাকার মো. আশিক (১৯) ও মো. জুবায়ের (১৯)। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ডাকাতির সময় লুট করা একটি স্মার্টফোন, একটি সিম কার্ড, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি শাবল, একটি ছোট চাকু, দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যে বুধবার গভীর রাতে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলমকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মো. আলম একই ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারের পর মো. আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি (আলম) খুবই অভাবী মানুষ। ফসল আবাদ করার জন্য তিনি প্রতিবেশী কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহ ও তাঁর ভাইয়ের কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের জমি অন্যজন আবাদ করছেন জানিয়ে পরে দেবেন বলে তাঁরা আলমকে জানান। এরই মধ্যে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নুরুল্লাহ ওমরাহ পালনে গেলে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার পরিকল্পনা মাথায় আসে আলমের। পরে বিষয়টি তিনি ডাকাত চক্রের সদস্য কামরুল নামের একজনকে জানালে তিনি রাজি হয়ে লোকজন জোগাড় করেন। সেই কথা অনুযায়ী ঘটনার দুই দিন আগে পরিকল্পনা করে তাঁরা ওই বাড়িতে মুখোশ পরে ডাকাতি করেন। পরে তাঁরা লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ছয় হাজার টাকা করে ভাগ করে নেন। এ ছাড়া ছোট-বড় ১৯টি স্বর্ণালংকার তাঁদের সহযোগী মনির ও কামরুলকে বিক্রি করতে দেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান পুলিশ সুপার।