চন্দন দাশ
চন্দন দাশ

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক সংগঠক ও চিকিৎসক চন্দন দাশ মারা গেছেন

চট্টগ্রামের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, বাম রাজনীতিক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চন্দন দাশ মারা গেছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পাথরঘাটায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

চন্দন দাশের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় জন্ম চন্দন দাশের। ছাত্রজীবনেই বামপন্থী রাজনীতিতে যোগ দেন। রাঙামাটি কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যুক্ত হন। সত্তরের দশকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

চন্দন দাশ চট্টগ্রামে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের একজন ছিলেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতির দায়িত্বও একাধিকবার পালন করেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চে চন্দন দাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণজাগরণ মঞ্চ, চট্টগ্রামের সদস্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নববর্ষ উদ্‌যাপন পরিষদ (সিআরবি), চট্টগ্রামের সহসভাপতি ছিলেন।

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি চন্দন দাশ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ডেন), চট্টগ্রামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত।

আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় নগরের হাজারী লেনে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সামনে এবং বেলা ১১টায় চেরাগী পাহাড়ে উদীচী কার্যালয়ের নিচে আজাদী চত্বরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত তাঁর সন্তান দেশে ফেরার পর শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।