ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে টিকে যাওয়ার পর ভোটারদের আস্থা অর্জনে দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও ইসলামি দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অবশ্য আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে ঝালকাঠি–১ আসনে আলোচনায় এসেছেন এনসিপির মাহমুদা আলম। জামায়াতের প্রার্থীকে বসিয়ে তাঁকে জামায়াত জোটের প্রার্থী করার বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অবশ্য দুজনই দল বা জোটের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া)
এই আসনে মোট ১৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ১১ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতের ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলনের ইব্রাহীম আল হাদী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাহমুদা আলম (মিতু), জাতীয় পার্টির (জেপি) এনামুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সোহরাব হোসেন, জনতা দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টি (জেপি) মাহিবুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র সাব্বির আহমেদ। মনোনয়নপত্র বাতিল হয় লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), গণ অধিকার পরিষদের শাহাদাৎ হোসেন, জাপার কামরুজ্জামান খান, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম, বিএনপির নেতা পরিচয় দেওয়া কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ও মঈন আলম ফিরোজীর।
রফিকুল ইসলাম (জামাল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম, বিএনপির নেতা পরিচয় দেওয়া কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, মঈন আলম ফিরোজী ও সাব্বির আহমেদ স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে যাচাই–বাছাইয়ে সাব্বির আহমেদ ছাড়া অন্য তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।
রফিকুল ইসলাম বলেন, যাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে দাঁড়িয়েছেন, দলে তাঁদের কোনো পদ–পদবি নেই। সে ক্ষেত্রে এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও নেই। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সঙ্গে থাকুন বা না থাকুন, তাতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘আমি যেন এ আসনে জোটের মনোনয়ন পাই, কেন্দ্রীয় নেতারা সে জন্য চেষ্টা করছেন। তবে জোটের স্বার্থে দল যদি আমাকে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীকে ছেড়ে দিতে বলে, আমি তা মেনে নেব। তবে আমি নারী প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার পাব বলে আশা করি।’
ঝালকাঠি–২ (সদর ও নলছিটি)
বিএনপির ইসরাত সুলতানাসহ মোট ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে জাপার এম এ কুদ্দুস খান, স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার ও সৈয়দ রাজ্জাক আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ইসরাত সুলতানা, জামায়াতের শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন, জেএসডির মাসুদ পারভেজ, গণ অধিকার পরিষদের মো. মাহমুদুল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে এমপি হয়েছিলেন ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ইলেন ভুট্টো এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এমনকি তিনি কোনো রাজনৈতিক মামলার আসামি হননি।