
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৯) সন্ত্রাসীদের গুলিতে কবির আহমদ (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই আশ্রয়শিবিরের এ-১১ ব্লকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত কবির আহমদ পার্শ্ববর্তী কুতুপালং (ক্যাম্প-৭) আশ্রয়শিবিরের বি-ব্লকের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে। পূর্বশত্রুতার জের এবং আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা বলে পুলিশের সন্দেহ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে আজ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক কবির আহমদের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নিহত কবির আহমদের বন্ধু ও লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২-ইস্ট) সি-২ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (৩০)। তাঁকে আশ্রয়শিবিরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের এ-১১ ব্লকে হানা দেয় ১০-১২ জনের রোহিঙ্গা সশস্ত্র দল। এরপর একটি ঘর থেকে কবির আহমদকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পাহাড়ের একটি জায়গায় নিয়ে কবির আহমদের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলা হয়। তারপর চোখমুখ বেঁধে কয়েকটি গুলি করা হয়। তাতে ঘটনাস্থলে কবিরের মৃত্যু হয়। কবিরকে রক্ষা করতে গিয়ে বন্ধু রফিকও গুলিবিদ্ধ হন। গোলাগুলির খবর পেয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, হামলাকারীরা মিয়ানমারের সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসী। কয়েক দিন আগেও রোহিঙ্গাদের ওপর গুলি চালায় আরসা সন্ত্রাসীরা। এ সময় সাধারণ রোহিঙ্গারা চারদিক থেকে সন্ত্রাসীদের ঘেরাও করে গণপিটুনি দিয়ে আরসার এক কমান্ডারকে হত্যা করে। এর জেরে আরসা সন্ত্রাসীরা কবির আহমদকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তাতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ জানায়, ৭ মে গভীর রাতে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৩) জি-১ ব্লকে হামলার সময় আরসার এক সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আরসার ছোড়া গুলিতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ মাসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একাধিক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা মাঝি, ১১ জন আরসা সদস্য, একজন স্বেচ্ছাসেবক ও অন্যরা সাধারণ রোহিঙ্গা।