
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মানুষের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকা নদীপাড়ে একটি ভুট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, মাথাটি ওই এলাকায় তিন দিন আগে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকচালক রফিক মিয়ার (২৭) লাশের। ভুট্টাখেত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে তিন আগে ওই তরুণের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী প্রথম আলোকে জানান, ইজিবাইকচালক রফিককে গলাকেটে হত্যার পর তাঁর মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন হত্যাকারী ব্যক্তিরা। উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
ইজিবাইকচালক রফিকের লাশ উদ্ধারের পর করা মামলায় ঘিওর উপজেলার রাথরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজীব হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
এজাহার, পিবিআই ও সদর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক ছিলেন। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে তাঁর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া বন্ধু ছিলেন। রফিককে হত্যা করে তাঁর ইজিবাইক বিক্রির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা করেন রিপন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাঁজা সেবনের কথা বলে রিপন, সজীব ও আরমান রফিকের ইজিবাইকে করে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন দা দিয়ে তাঁর গলাকেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজীব তাঁর দুই পা ধরে রাখেন। হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রফিকের মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। পরে তাঁরা রফিকের পেট কেটে লাশ নদীর তীরে মাটিচাপা দেন।
বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, আজ সকালে দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তি নিজের খেতে ভুট্টা তুলতে গেলে শরীর থেকে বিছিন্ন মাথাটি দেখতে পান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে নিক্ষেপ করার পর ভাসতে ভাসতে ভুট্টাখেতের পাশে নদীর তীরে আসে। পরে কুকুর বা শেয়াল সেখান থেকে মাথাটি ভুট্টাখেতে নিয়ে আসতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মাথাটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।