কারাদণ্ড
কারাদণ্ড

যশোরে ভিজিডির চাল আত্মসাতের মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ১৩ বছর কারাদণ্ড

দরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দ ভিজিডির চাল আত্মসাতের মামলায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার যশোরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত বাবুল আক্তার অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের জন্য ১০ বছর ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য ৩ বছর, মোট ১৩ বছর সাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে তাঁর সম্পত্তি থেকে ক্রোক করা হবে। সকালে আসামি আদালতে হাজির হলেও রায় ঘোষণার সময় তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে তিনি হয়তো আর আদালতের এজলাসে আসেননি।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৬০ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০ কেজি করে মোট ৭ হাজার ৮০০ কেজি (৭ দশমিক ৮ মেট্রিক টন) ভিজিডির চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর সরকারি গুদাম থেকে এই চাল উত্তোলন করেন। তবে উত্তোলিত চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে ও ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রানী মজুমদার। মামলার তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল ইউপি চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি সিরাজুল ইসলাম জানান, আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাঁকে আরও ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আত্মসাৎ করা চালের সমমূল্য ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক, যা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায়যোগ্য হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় ধারার সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। এতে আসামিকে মোট ১৩ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।