খুলনায় তরুণ মেয়র প্রার্থীর সাক্ষাৎকার

তরুণদের বার্তা দিতে চাই, দেশের স্বার্থে রাজনীতিটা করতে হবে

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তাঁদের একজন আল-আমিন মো. আবদুল্লাহ চৌধুরী। তাঁর বয়স ২৫ বছর ৪ মাস। ‘তরুণ নেতৃত্ব জনগণের কর্তৃত্ব’ স্লোগান নিয়ে মেয়র পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন এই তরুণ সংগঠক। ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস শেষ করেছেন। ২০১৪ সালে তরুণদের নিয়ে খুলনায় ‘আগুয়ান-৭১’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্বাচনী পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে।

আবদুল্লাহ চৌধুরী
আবদুল্লাহ চৌধুরী
প্রশ্ন

‘আগুয়ান-৭১’ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে মেয়র পদে নির্বাচনের ভাবনা এল কীভাবে?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: মানুষকে সাহায্যের পাশাপাশি জনগণের অধিকারের প্রশ্নে অন্যায়, অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে সব সময় সোচ্চার থেকেছি। আমাদের ৯ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, আসলে কেবল দাতব্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সামাজিক সংগঠনে দেওয়া শ্রমটাই যদি আমরা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দিই, তাহলে মানুষের উপকার করার সুযোগটা বেশি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন খুলনা সিটি করপোরেশনে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি, জনপ্রতিনিধিদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন ঘটেনি, নগরের মানুষের ভোগান্তি কমেনি। সর্বোপরি দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণেই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ভাবনা আসে। আরেকটি কারণ হলো, আমরা তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে চাই। মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে ‘রাজনীতি একটি ঘৃণ্য বিষয়’। অনেক অভিভাবক সন্তানদের রাজনীতি করতে নিরুৎসাহিত করেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা তরুণদের একটা বার্তা দিতে চাই, আমাদের নিজের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে, সমাজ ও দেশের স্বার্থে রাজনীতিটা করতে হবে।

প্রশ্ন

আপনারা নির্বাচনে আসছেন গত ফেব্রুয়ারিতে, সংবাদ সম্মেলন করে এ রকম ঘোষণা দেওয়া পর থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: আইনগত বাধার কারণে নির্বাচনমুখী প্রচারণা এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা অনলাইন ও অফলাইনে আমাদের ভাবনাটা শেয়ার করছি। শুধু তরুণদের সঙ্গেই যোগাযোগ করছি, তা না। সব বয়সী মানুষের কাছে যাচ্ছি। পরিবর্তনকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। মানুষ অনেক ভালোভাবেই আমাদের গ্রহণ করছে।

প্রশ্ন

নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: কর্মী থেকে আমাদের সমর্থক বেশি বলে মনে করি। ‘আগুয়ান-৭১’–এর বাইরে অন্য বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য আমাদের একটা কেন্দ্রীয় কমিটি আছে। পুরো করপোরেশন এলাকাকে আমরা সাতটি সাংগঠনিক এলাকায় ভাগ করেছি। সেগুলোতেও কমিটি করা হয়েছে। সেসব কমিটি নগরের ৩১টি ওয়ার্ডেই নির্বাচনী কমিটি করার কাজ করছে। বাস্তবতা হচ্ছে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মতো জনবল এখনো আমাদের নেই। অর্থ দিয়েও মানুষ আনতে পারব না। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অফলাইন ও অনলাইনে কর্মী–সমর্থকেরা আমাদের কাজটা এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রশ্ন

আপনারা বারবার পরিবর্তনের কথা বলছেন। আসলে কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন চান?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: আমরা চাই তরুণেরা রাজনীতিবিমুখ না হোক। এ ছাড়া মোটাদাগে খুলনা সিটিতে তিনটা বড় পরিবর্তন দরকার। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা, গতানুগতিক ধারা বাদ দিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করা এবং জনগণের অংশীদারত্ব বাড়িয়ে তাঁদের আরও সচেতন করে তোলা। আমার কাছে খুলনাকে আনস্মার্ট সিটি মনে হয়েছে। নগর এলাকায় বেশ কিছু সংস্থা কাজ করে। কারও সঙ্গে কারও সমন্বয় না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। এ ছাড়া সঠিক পরিকল্পনার অভাব আছে। সিটির উন্নয়নে প্রচুর বরাদ্দ এলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এর সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নগরের অনেক ভোগান্তির পেছনে জনপ্রতিনিধিরা জনগণকে দোষারোপ করেন। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগটা ঠিক রেখে তাঁদের অংশীদারত্ব বাড়িয়ে সচেতন করলে অনেক নাগরিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

প্রশ্ন

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন? কোনো শঙ্কা কাজ করছে?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: বিগত নির্বাচনগুলোর অস্বচ্ছতা এবং মাঠে ভোটারদের জনমত নিয়ে দেখা গেছে, জনমনে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তীব্র শঙ্কা আছে। মানুষ ভোট দিতে যেতে চান না। তাঁদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা যে কেন্দ্রে গেলেও তাঁদের ভোট তাঁরা দিতে পারবেন না, আর পারলেও নিজের ইচ্ছামতো দিতে পারবেন না, আর দিলেও সেটা ঠিকভাবে গণনা করা হবে। এই নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহারে সূক্ষ্ম কারচুপি থাকতে পারে। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সাংবাদিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে সাংবাদিকদের কাজ করায় ব্যাঘাত ঘটবে। এ ছাড়া নির্বাচন কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হয় কি না, সেটা নিয়েও একধরনের উদ্বেগ আছে।

প্রশ্ন

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার, বিষয়টি যদি একটু পরিষ্কার করেন?

আবদুল্লাহ চৌধুরী: আমাদের প্রচারণার একটা বড় প্ল্যাটফর্ম হবে অনলাইন প্রচারণা। অনলাইনে আমাদের কর্মীদের খুব ছোটখাটো সমালোচনাও অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। মানুষের দুর্ভোগ বা জনপ্রতিনিধিদের কাজের সমালোচনা তাঁরা নিজে বা তাঁদের সমর্থকেরা না–ও মানতে পারেন। দেখা গেল, তাঁদের কেউ একজন বিতর্কিত ওই আইনে মামলা করে দিলেন। নির্বাচন কেন্দ্র করে এটাকে যেন কেউ হাতিয়ার না করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।