
রাজশাহীতে এক কলেজশিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ শনিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৪ মার্চ মারধরের ঘটনার পর ৫ মার্চ থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষক।
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জুয়েল রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেপ্তার দুজন হলেন শাহ মখদুম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ ওরফে শিহাব ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ওরফে চন্দন।
শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে শাহ মখদুম কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তাঁরা দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বেশ কয়েক মাস ধরে দুই ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আবু সুফিয়ান শিক্ষক আসাদুজ্জামানের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২৬ নভেম্বর তাঁরা তাঁকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পরে ৪ মার্চ নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় তাঁর বাসার সামনে একা পেয়ে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁকে আবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
শিক্ষকের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দুই ছাত্রদল নেতা তাঁকে চড়থাপ্পড় ও মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা মারুফ ও সুফিয়ান। সেখানে তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের সমর্থক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলটির পক্ষে কাজ করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদা দাবি ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় মামলার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।