বছরে দুবার বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে পাতা ছেঁটে দেন। এবার একদম মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের কুকিলা গ্রামের সারিবদ্ধ ২৩টি বড় তালগাছকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এই গাছগুলোর ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন যাওয়ায় দুই মাস আগে তালগাছগুলোর মাথা মুড়িয়ে দেয় তারা। উপজেলার নিশ্চিন্তপুর থেকে গোবিন্দপুর যাওয়া-আসার পথে মাথা মুড়িয়ে দেওয়া তালগাছগুলো চোখে পড়ে। তালগাছগুলো বাঁচাতে কারও কোনো উদ্যোগ নেই।
অথচ চলতি মাসের ৫ তারিখ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মাগুরায় ২ হাজার ২০০ তালগাছের চারা রোপণ করেছে জেলা প্রশাসন। ওই দিন জেলার চার উপজেলায় সশরীর উপস্থিত থেকে তালের চারা রোপণ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ। বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী দিনে জেলায় আরও তালগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কুকিলা গ্রামের সাইফুল মণ্ডলের ছেলে হাসান আলী জানান, ২০০৪ সালের দিকে তাঁর দাদি সাজু বিবি রাস্তার পাশে ২৬টি তালগাছ লাগিয়েছিলেন। ২০১২ সালে দাদি মারা যান। তবে তাঁর লাগানো গাছের মধ্যে ২৩টি তালগাছ এখনো বেঁচে আছে। বছরে দুবার বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে তালগাছের পাতা ছেঁটে দেন। আর এবার একদম মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুকিলা গ্রামের আফসানা খাতুন বলেন, ‘এভাবে গাছ কাটা উচিত নয়। কারণ, গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়। কিন্তু ওনারা (বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন) কোনো কথা শোনেন না। শুধু এখানে নয়, গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের লাইনের জন্য গাছ কাটা পড়ে।’
একই গ্রামের আতিয়ার মণ্ডল (৬০) প্রথম আলোকে বলেন, ‘তালগাছগুলো আমাগের ছায়া দেয়, ফল দেয়। এরা বিদ্যুৎ বিভাগ মাথা মুড়ে দিছে, এখন যত দূর ওপরে আছে, এর পরেরবার মাথাই কাটতি হবে নে। আমরা চাই বিদ্যুতির লাইন যেকোনো দিক একটু সরায়ে হলিও যাতে গাছগুলো বাঁচে। কারণ, একটা তাল গাছের ফল আসতি প্রায় ২০ বছর সময় লাগে।’
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালের দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ আসে। তারও কয়েক বছর আগে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হয়। ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) উপকেন্দ্র-৩ (জগদল) থেকে।
ওই উপকেন্দ্রের কর্মচারীরাই বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে গাছগুলোর মাথা মুড়িয়ে দিয়েছেন।
জানতে চাইলে জগদল উপকেন্দ্রের ইনচার্জ লাইন টেকনিশিয়ান মো. ইকরামুল হক প্রথম আলোকে জানান, তিনি এখানে দায়িত্বে এসেছেন ৯ মাস আগে। তাঁর ধারণা, তালগাছগুলো লাইন বসানোর পর লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, লাইন সরাতে হলে অন্যের জমির ওপর দিয়ে যাবে হয়তো, তখন আবার স্থানীয় ব্যক্তিরা বাধা দেবেন।
লাইন স্থানান্তরের খরচও আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রয়োজনে লাইন সরালে, বিদ্যুৎ বিভাগ খরচ বহন করে আর স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রয়োজনে সরাতে হলে তাঁদের খরচ বহন করতে হয়।
চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য টোকন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, তালগাছ থাকতেই এর ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছিল। তখন গাছগুলো ছোট ছিল। বিদ্যুতের লাইন ও তালগাছ দুটিই সরকারের জায়গায়। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।