রায়পুরায় গুলিতে কিশোর নিহত

হত্যাকাণ্ডের ৩৯ দিন পর প্রধান আসামি শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার

মাসুম মিয়া
ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে কিশোর মুস্তাকিম হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে আদালতে ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দেন।

ঘটনার ৩৯ দিন পর গতকাল রোববার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুমকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রায়পুরার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামের মালেক মিয়ার ছেলে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর ইউনিয়নে সায়দাবাদ গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর মুস্তাকিম গুলিতে নিহত হন। ওই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল মুস্তাকিম। হত্যাকাণ্ডের পরদিন রাতে তার মা শাহানা বেগম বাদী হয়ে মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুম ও তাঁর বাবা মালেক মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন।

পুলিশ ও নিহত কিশোরের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে হানিফ মাস্টার, অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন এরশাদ মিয়া। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ছয়টার দিকে এরশাদের অনুসারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্রসহ হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। এ সময় তাঁদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যান হানিফ মাস্টারের অনুসারীরা। ওই সময় ঘুম থেকে উঠে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল কিশোর মুস্তাকিম। একপর্যায়ে সংঘর্ষের মধ্যে এরশাদ পক্ষের ছোড়া গুলি তার বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামি মাসুম মিয়া ওরফে চায়না মাসুম মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে আত্মগোপনে আছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ শিকদারের নেতৃত্বে একটি দল শ্রীমঙ্গল যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন–সংলগ্ন এলাকা থেকে রোববার দুপুরে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাতেই তাঁকে নিয়ে রায়পুরা থানায় ফেরে পুলিশ।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, মুস্তাকিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুম মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলা রয়েছে। এই হত্যা মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।