
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে। পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সুফল পাবেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে পাংশার হাবাসপুরে কে রাজ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় যোগদানের আগে তিনিসহ অতিথিরা হাবাসপুরে প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ও মাছের উৎপাদন বাড়বে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানিবিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে কারিগরি সমীক্ষা নিয়ে আমরা এগিয়ে এসেছি। আজ ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।’
পদ্মা ব্যারাজকে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাবাসপুর এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবনার সুজানগরে গিয়েও এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজের ৭৮টি স্পিলওয়ে (উপচে পড়া পানিনিষ্কাশনের পথ), ১৮টি আন্ডারস্লুইস (বাঁধের তলদেশে থাকা বিশেষ জলকপাট), দুটি ফিশ পাস (মাছের চলাচল পথ), নেভিগেশন লক ও বিশেষ পাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধাপে ২টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পানামা খালের চেয়েও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে পদ্মা ব্যারাজ
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন (নকশা) করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আজকের যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছে। এ জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কিন্তু আপনাদের সাথে ব্যথিত।’
রাশেদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘আজকে কিন্তু সারা দেশে একটা বড় সমস্যা—বেকার সমস্যা। সারা বাংলাদেশে অবহেলিত অঞ্চলের জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কাজ করে যাচ্ছেন। আজ আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করছি, হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলছি। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে আপনারা জানুয়ারি মাসে একটা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পারবেন, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানযোগ্য শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে।’
হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আসলাম মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।