আজ মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের ১৭টি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বর্ণিল এ আয়োজনে
আজ মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক পর্যায়ের ১৭টি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বর্ণিল এ আয়োজনে

কিষান থেকে কাকতাড়ুয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের বর্ণিল শোভাযাত্রায় গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি

কেউ সেজেছেন কিষান-কিষানি, কেউ জেলে, কেউবা কুমার। কোথাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রূপ, কোথাও গ্রামীণ জীবনের আবহ। রাখাল, ঘটক, বরযাত্রী, হালখাতা, বাউল, বেদে, কাকতাড়ুয়া, কামার, তাঁত, জারিগান ও লাঠিখেলার সাজ—সব মিলিয়ে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ। বৈচিত্র্যময় এসব সাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছেন গ্রামবাংলার হারানো ও চেনা ঐতিহ্য।

এ দৃশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বৈশাখী শোভাযাত্রার। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করতে আজ মঙ্গলবার সকালে কলেজটির স্নাতক পর্যায়ের ১৭টি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বর্ণিল এ আয়োজনে।

আজ সকাল ১০টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। পরে কলেজপাড়া, জেলা পরিষদ মার্কেট, কালীবাড়ি মোড়, টিএ রোড, ঘোড়াপট্টি সেতু, মঠের গোড়া, পুরাতন কাছারি পুকুরপাড়, হাসপাতাল রোড ও কুমারশীল মোড় প্রদক্ষিণ শেষে আবার কলেজ প্রাঙ্গণে ফিরে আসে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক পর্যায়ে চালু থাকা ১৭টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১৭টি ভিন্ন গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাজে অংশ নেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কিষান-কিষানি, ইংরেজি বিভাগের জেলে, ইতিহাস বিভাগের কুমার, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের গ্রামীণ জীবন, দর্শন বিভাগের রাখাল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বরযাত্রী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের ঘটক, অর্থনীতি বিভাগের হালখাতা, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বাউল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বেদে, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কাকতাড়ুয়া ও কামার, রসায়ন বিভাগের তাঁত, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের জারিগান ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠি খেলোয়াড় সাজে সেজেছিলেন।

শিক্ষার্থীরা ভ্যানগাড়িতে বসে ও দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশ নেন

শিক্ষার্থীরা ভ্যানগাড়িতে বসে ও দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাঁদের রঙিন ও বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা দিক।

ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম বর্ষের ছাত্র আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঙালি জাতি। আমাদের ঐতিহ্যই আমাদের পরিচয় বহন করে। বাংলার ঐতিহ্য কিষান-কিষানি, জেলে, হালখাতা, বরযাত্রী, নববধূ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি—এসবই তো। আমরা আমাদের সাজে বাংলাদেশকে ফুটিয়ে তুলেছি।’

সাজ–পোশাকে ছিল সম্প্রীতির বার্তাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জিমি হৃদয় বলেন, ‘আয়োজনটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের প্রায় সব ঐতিহ্যকেই আমরা শোভাযাত্রায় রাখার চেষ্টা করেছি এবং ফুটিয়ে তুলেছি।’

জেলা শহরের কান্দিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পালকিতে করে নববধূকে বরযাত্রী নিয়ে আসছে—দৃশ্যটি অনেক দিন পর দেখলাম।’

বর–কনে সেজেছিলেন শিক্ষার্থীরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ১৭টি বিভাগকে ১৭টি ঐতিহ্যের সাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা উপস্থাপন করেছেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত নান্দনিকভাবে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ জেড এম আরিফ হোসেন বলেন, ‘সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বর্ণিল উপস্থাপনা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিবছরই আমরা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করার চেষ্টা করি।’