
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার একটি ইটভাটায় কাজ করতেন আবদুল আজিজ (২৬)। টানা ২১ দিনের মজুরি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে সুনামগঞ্জের বাড়িতে ফিরছেন। তবে বাড়ি ফেরার পথেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আগে যে পথে ৮০০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে দিতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের অলংকার এলাকায় আবদুল আজিজের সঙ্গে কথা হয়। তিনি একা নন। তাঁর সঙ্গে আরও ১৫ জন সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ৫ জন, শিশু ৯টি। একই দলের আরও দুজন যাচ্ছেন কুষ্টিয়ায়। শিশু ছাড়া সবাই একই ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। বৃষ্টির মধ্যে ব্যাগ-বস্তা নিয়ে অলংকার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁদের।
বাড়ি ফেরার ভাড়ার টাকাও ছিল না। গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে টিকিট কেটেছি। বাড়ি গিয়ে কাজ করে সেই টাকা শোধ করতে হবে। সবার অবস্থা একই।মোহাম্মদ শাহেদ, ইটভাটার শ্রমিক।
কুষ্টিয়াগামী মোহাম্মদ শাহেদ (২৮) ঈগল পরিবহনের টিকিট কিনেছেন ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। অথচ সাধারণ সময়ে এই পথে ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার টাকা। শাহেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাত মাস আগে তাঁরা ওই ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পেতেন। কিন্তু ২১ দিন ধরে মালিক মজুরি দেন না। উপায় না পেয়ে কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। সুনামগঞ্জের বাস ছাড়বে আজ সন্ধ্যা ছয়টা এবং কুষ্টিয়ার বাস ছাড়বে বিকেল পাঁচটায়।
শাহেদ বলেন, ‘বাড়ি ফেরার ভাড়ার টাকাও ছিল না। গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে টিকিট কেটেছি। বাড়ি গিয়ে কাজ করে সেই টাকা শোধ করতে হবে। সবার অবস্থা একই।’
আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাস টার্মিনালগুলোতে এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। আজ নগরের অলংকার ও এ কে খান এলাকায় গিয়ে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা। কেউ আবার শিশু কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কেউ সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন পোষা পাখিও।
নগরের অলংকার এলাকায় নোয়াখালীগামী শাহি কাউন্টারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেখানে প্রতিটি টিকিট বিক্রি হচ্ছিল ৫৮০ টাকা করে। যাত্রী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, তিনি নোয়াখালীর চৌমুহনী যাবেন। ঈদের আগে এই পথে ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৫৮০ টাকা। একই পথে চলাচলকারী জোনাকি পরিবহনও নিচ্ছে ৫৮০ টাকা ভাড়া।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহি কাউন্টারে থাকা বাসের এক চালকের সহকারী বলেন, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকে বাস খালি ফিরতে হচ্ছে। তাই বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জগামী আরেক যাত্রী মোহাম্মদ মাইনউদ্দিনকে পাওয়া যায় ইয়াছিন এক্সপ্রেস কাউন্টারের সামনে। তিনি টিকিট কিনেছেন ১ হাজার ৫০০ টাকায়। মাইনউদ্দিন বলেন, ‘আগে ৮০০ টাকা দিয়ে যেতাম। ঈদ এলেই দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়। এবারও তাই হচ্ছে।’ তবে ইয়াছিন এক্সপ্রেসের কর্মচারী মোহাম্মদ জিসান দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে তাঁরা অতিরিক্ত কিছু নিচ্ছেন না। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে। সেই ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী রিয়াজ মোহাম্মদ মহসিন কুমিল্লার টিকিট কেটেছেন ৫০০ টাকায়। দাউদকান্দি এক্সপ্রেসের টিকিট কাটেন তিনি। পরে প্রথম আলোকে বলেন, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কুমিল্লা পর্যন্ত ৪০ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৩৭ টাকা। সে হিসাবে ৬৩ টাকা বাড়তি নেওয়া হয়েছে।