
নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচ থানায় রোববার রাত থেকে আজ সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিএনপির আরও ১১ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীর দায়ের করা মামলায় ককটেল বিস্ফোরণ, নাশকতা এবং আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ নিয়ে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় করা নয়টি মামলায় দলের প্রায় এক শ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের। তাঁরা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা সমাবেশ বানচাল করতে এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এমন অভিযোগের সঙ্গে একমত নন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু মাহমুদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সবাইকে সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাশকতার মামলায় এই অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর আড়াইহাজার উপজেলার ইবরদি এলাকায় মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে আড়াইহাজার পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ও বিএনপি কর্মী নাসির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক।
একই রাতে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেলিম মিয়া নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নবীগঞ্জে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মী সোহেল মিয়ার করা মামলার আসামি তিনি।
২৭ নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামাল বক্স নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিএনপির সক্রিয় সদস্য।
রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকা থেকে মো. কাশেম, সাদ্দাম হোসেন ও ডালিম মিয়া নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই বিএনপির কর্মী। তাঁদের নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সোনারগাঁ থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপির চার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন শাহীন কবির, হাবিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুর রাজ্জাক।