
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘আমরা ভোট দেব, ভোটকেন্দ্রে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, আমরা সেদিকে নজর রাখব। ভোট যাতে সুষ্ঠু-অবাধ হয়, অর্থাৎ সবাই ভোট দিতে পারি। আমরাসহ কেউ যাতে কোনো ভোট জালিয়াতি করতে না পারে। ভোট শেষে গণনা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়।’
আজ শুক্রবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এ কথাগুলো বলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক। তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অবশেষে আমাদের একটা নির্বাচন হচ্ছে। ১৭ বছর পর যেখানে আমরা ভোট দিতে পারব। এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের ব্যাপার। প্রত্যেকে যেন নিজের ভোট নিজে দেয়, ভোট শেষে গণনা যেন সুষ্ঠুভাবে হয় এবং ভোট শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরব। এই রকম একটা পরিবেশ তৈরির জন্য আপনারা কাজ করবেন। এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গণভোট একদিকে, আরেক দিকে এমপি নির্বাচনের ভোট। দুই ভোট আপনাদের দিতে হবে। আমরা আহ্বান জানাই গণভোটে হ্যাঁ–ভোট দিবেন। এমপি নির্বাচনে মাথাল মার্কায় ভোট দিবেন।’
মাথাল মার্কা বিজয়ী হলে বাঞ্ছারামপুরকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোনায়েদ সাকি জানান, ১২ তারিখে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ জোট সরকার গঠন করবে। আর আসনটিতে মাথাল মার্কাই ধানের শীষ। মাথাল মার্কাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে তিনি আহ্বান জানান।
জোনায়েদ সাকি জানান, বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণ অধিকার পরিষদসহ ৩৯টি দল একসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। ৩১ দফা কর্মসূচি, রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, মেরামত, রূপান্তরসহ একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির জন্য ২০১৮ সালের মধ্য রাতের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পরই দলগুলো একমতে আসে যে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার ও শাসনব্যবস্থা বদলাতে একমত হয় দলগুলোর মধ্যে। তিনি বলেন, ‘কাজেই আমরা সবাই রক্তের ঋণে আবদ্ধ, সারা বাংলাদেশের মানুষ রক্তের ঋণে আবদ্ধ। আবু সাঈদ, মুগ্ধ হাজারো তরুণ, বৃদ্ধ, নারীসহ চৌদ্দ শর ওপরে মানুষ মারা গেছেন। এই যে অভ্যুত্থান, আমরা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রক্তের ঋণে আবদ্ধ হয়ে আছি। এই দেশটাকে আমাদের বদলাতে হবে।’
নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট পাকা, নদী রক্ষাসহ নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘মেঘনা সেতু নির্মাণসহ অর্থনীতি, শিল্প–কলকারখানা-ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও কৃষিতে বিনিয়োগ একটা বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের হিস্যা আদায় করতে হবে। বিএনপি এখানে প্রার্থী না দিয়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থান, নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়াসহ রাজনৈতিক খুনোখুনি বন্ধ করতে হবে। এই নির্বাচন আমার নির্বাচন না, আপনাদের প্রত্যেকের নির্বাচন। সবাইকে উৎসাহিত করে ১২ তারিখ ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।’