
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এনসিপির প্রার্থী এস এম জার্জিস কাদিরের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সিংড়ার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দলের দুই কর্মী আহত হয়েছেন।
আহত দুজন হলেন সুলতান সরকার (৪২) ও আবদুল আহাদ (৫০)। তাঁরা মৌগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।
সিংড়া থানা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, এনসিপির প্রার্থী জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম জার্জিস কাদির নিজ এলাকা মৌগ্রামে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে সভা করছিলেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ ৩০–৪০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে কার্যালয় ঘিরে ফেলে। তারা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর ও চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ও দেয়াল ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় এনসিপির দুই কর্মী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের সহায়তায় আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত সুলতান সরকার বলেন, তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণার কলাকৌশল নিয়ে সভা করছিলেন। এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের কর্মী এবং সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক প্রচার সম্পাদক আবদুল জলিল (৪৫), নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম হোসেন (২৬) ও বিএনপি কর্মী আবদুস কুদ্দুস (৫০) হাঁসুয়া, রামদা ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালান। বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের চাচাশ্বশুর। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী ক্যাডারদের ব্যবহার করছেন।
তবে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তাঁর কোনো কর্মী-সমর্থক যাননি। নির্বাচনী পরিবেশ বিতর্কিত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।