যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় পানিসারা গ্রামের ফুল খেতে কাজ করার সময় আব্দুর রহিমকে পিটিয়ে জখম করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় পানিসারা গ্রামের ফুল খেতে কাজ করার সময় আব্দুর রহিমকে পিটিয়ে জখম করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি

যশোরে ফুলচাষি আবদুর রহিমকে পিটিয়ে জখম, দুই দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় পানিসারা গ্রামের ফুলখেতে কাজ করার সময় ওই এলাকায় ফুল বাণিজ্যিকীকরণের অন্যমত পথিকৃৎ আবদুর রহিমকে (৫৬) পিটিয়ে জখন করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলার জন্য অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আবদুর রহিমের স্ত্রী। তবে দুই দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তিরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গত সোমবার বিকেলে উপজেলার পানিসারা গ্রামে হামলার সময় মাথায় আঘাত পান আবদুর রহিম। আজ বুধবার মাথায় সিটি স্ক্যান করার জন্য যশোর শহরে হাসপাতালে যান। আবদুর রহিম ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের বাসিন্দা। ‌তিনি বাংলাদেশ-আমেরিকা মৈত্রী ফুল বিপণনকেন্দ্রের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

এদিকে এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পানিসারা গ্রামের বাসিন্দারা সংগঠিত হলে স্থানীয় সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন হামলা চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আরও দুজনকে পিটিয়ে আহত করেন। আহত দুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের হৃদয় হোসেন ও আসাদুল ইসলাম।

আহত আবদুর রহিমের স্ত্রী নাসরিন নাহার ঘটনার দিনই ঝিকরগাছা থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে মামলার আবেদন করেছেন। মামলার আবেদনে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন একই এলাকার নূর হোসেন ওরফে টাইগার (৪০), মো. জাহিদ হোসেন (২৮), মো. মুরাদ হোসেন (৩৫) ও লুত্ফর হোসেন (৪০)। তাঁরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার বিকেলে আবদুর রহিম বাড়ির পাশে নিজের গাঁদা ফুলের খেতে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে এসে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারী ব্যক্তিরা লোহার পাইপ ও কাঠের বাট দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হয়ে খেতেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ দায়েরের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, আবদুর রহিমকে মারধরের একটা ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ দুর্বল। কোনো ধারায় পড়ছে না বলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি।

কেউ কাউকে লাঞ্ছিত করলেও তো মামলা হয়, অথচ মারধরের ঘটনায়ও মামলা হলো না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি শাহজালাল আলম বলেন, ‘মামলাটি এখনো রেকর্ড হয়নি, এটাই সত্য কথা।’

ভুক্তভোগী আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফুলসংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণ করা নিয়ে বিএনপি নামধারী কয়েকজনের সঙ্গে আমার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করেন। আমার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। আজ মাথায় সিটি স্ক্যান করার জন্য যশোর শহরে এসেছি।’

আবদুর রহিমের দাবি, যাঁরা হামলা চালিয়েছেন, তাঁরা ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে সাবিরা সুলতানার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ধরেননি।