পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার মনির হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার মনির হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে

মা–বাবার ভালোবাসা পেতে ভুয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে কিশোরী, ২৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ তরুণ গ্রেপ্তার

মা–বাবার ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ভুয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে পড়ে এক কিশোরী। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ভুয়া তান্ত্রিককে গ্রেপ্তার করেছেন জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মনির হোসেন (২১)। পুলিশ বলছে, তিনি একটি তান্ত্রিক প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য। বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকায়। তিনি ‘মেড ইন জামালপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজের কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত। প্রতারণার শিকার কিশোরী শেরপুর জেলার একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। পিবিআই জানায়, ওই কিশোরী তিন ভাই–বোনের মধ্যে বড়। সম্প্রতি তার মনে হচ্ছিল, মা–বাবা তাকে কম ভালোবাসে এবং ছোট ভাই–বোনদের বেশি স্নেহ করে। এ থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাধান খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী মো. খোরশেদ (২৯) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির সহযোগীরা ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ নামে একাধিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে এবং সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই ঘটনার পর নানা অজুহাতে কবিরাজ ফি, খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, দুধ ও ফল কেনার কথা বলে গত ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে কিশোরীর কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা আদায় করা হয়। পরে আরও টাকা নেওয়ার কৌশলে তার কাছ থেকে পরিবারের প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে আবার টাকা দাবি করলে কিশোরী বিকাশে টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদার তার বয়স কম দেখে সন্দেহ করেন এবং বিষয়টি তার বাবাকে জানান। এতে পুরো প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। পরে কিশোরীর বাবা শেরপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নজরে এলে তাঁর নির্দেশে জামালপুরের পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে চক্রের দুই সদস্য মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো স্থানে বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ মোট পাঁচটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে একাধিক দল কাজ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মূল হোতাসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।