তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী

ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে ২৪ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পার হলেও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ২৪ জন নাগরিক।

আজ শনিবার দুপুরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এই নাগরিকেরা নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরাসরি নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে। সে বছর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে দুজন ঘাতক ত্বকী হত্যার বিশদ বর্ণনা দেয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব ত্বকীকে কেন, কখন, কোথায়, কারা, কীভাবে হত্যা করেছে, তার বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছায় সে বিচারপ্রক্রিয়া সাড়ে ১১ বছর বন্ধ হয়ে থাকে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে কিছু তৎপরতা দেখালেও তাদের দেড় বছরের শাসনামলে বিচারের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা সংবাদমাধ্যমে জানলাম মামলার ১০১টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েনি। ইতিমধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে।’

বিবৃতিতে নাগরিকেরা আরও বলেন, ‘ত্বকী-হত্যা দেশব্যাপী যে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, তা সমাজের মৌলিক অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ত্বকী হত্যার ১৩ বছরের মাথায় আমরা দ্রুত বিচারের দাবিতে নতুন সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা সুবিচার আশা করছি। আর দেরি না করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়ে এ বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এই বিচার সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দেশের বিচার বিভাগ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের দীর্ঘ দিনের হতাশা ও অনাস্থার অবসান ঘটাবার সক্রিয় উদ্যোগ নেবে বলেও আমরা আশা করছি। সুবিচার পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা মনে করি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্র, সাম্য, অগ্রগতি, মানবিক মর্যাদা ও সভ্যতার মানদণ্ড। যেকোনো মূল্যে একে নিশ্চিত করতে হবে।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আইনজীবী শাহদীন মালিক, মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি লেখক-গবেষক মফিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক শফি আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আলোকচিত্রী–মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, শিশু সংগঠক লেনিন চৌধুরী, কবি–সাংবাদিক সোহরাব হাসান, শিল্পী কফিল আহমেদ, আইনজীবী সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আ-আল মামুন, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, শিল্পী অরূপ রাহী, শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলাম ও শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান।