রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর বিষক্রিয়ায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক স্থানে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলাটিতে তিন দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
এর আগে গত রোববার রাতে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর বিষক্রিয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই রাতে তাঁরা রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেছিলেন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে সদর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার জয়নুল আবেদিন তাঁর বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি করে আসছিলেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা জয়নুল আবেদিনের কাছ থেকে স্পিরিট কিনে পান করেন। পরে বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
এদিকে, রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার জয়নুল আবেদিন কারাবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিষক্রিয়ায় সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কিসামত বসন্তপুর গ্রামের আবদুল মালেক (৪৭) ও রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের রাশেদুল হক (৪৮)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ও রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল গফুর।
বদরগঞ্জ থানার ওসি জানান, আবদুল মালেক সদর উপজেলার শ্যামপুর বাজারে পানের দোকান করতেন। গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার ওসি বলেন, রাশেদুল হক গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে শ্যামপুর বাজার এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে রাস্তায় মারা যান। ওই সময় তিনি বমি করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাশেদুলও রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের ফলে বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মৃত তিনজন হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সোহেল মিয়া (৩০), আলমগীর (৪০) ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুরের শাহপাড়ার জেনতার আলী (৪১)। সোহেল মিয়া ভ্যানচালক, আলমগীর ব্যবসায়ী ও জেনতার আলী কৃষিকাজ করতেন।
রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে তিনজনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পরদিন গত সোমবার গ্রেপ্তার হন জয়নুল আবেদিন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়। এরপর তাঁকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল।
গত সোমবার মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যার অভিযোগে জয়নুলসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জয়নুলকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বদরগঞ্জ থানার পুলিশ আদালতে (বদরগঞ্জ আমলি আদালত) পাঠালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার (ভারপ্রাপ্ত) শাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জয়নুল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাজতি হিসেবে কারাগারে আসেন। সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭টায় হঠাৎ তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। এ সময় তাঁর ঘাম হচ্ছিল ও বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। আমরা দ্রুত তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে হৃদ্রোগ বিভাগে ভর্তির ব্যবস্থা করি। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নুলের মৃত্যু হয়।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক হরিপদ দত্ত প্রথম আলোকে জানান, জয়নুল বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে ভর্তি হন। তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর পালস ও ব্লাড প্রেশার কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না।