সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রথম আলো ট্রাষ্টের সহায়তায় আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর সৌজন্যে ১৫০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রথম আলো ট্রাষ্টের সহায়তায় আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর সৌজন্যে ১৫০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ

‘কম্বলডা পায়ে খুব ভেলো লেগদেছে’

‘যে ঠান্ডা পড়ছে তাতে গরম কাপুড় না হলি ঘুমুনো যায় না। কম্বলডা পায়ে খুব ভেলো লেগদেছে। ঠান্ডার মধ্যি নাত্রিবেলা গায় দে ঘুমুতে পারবনে। তোমাগা আল্লা ভেলো নাখুক।’ প্রথম আলো ট্রাস্টের সহায়তায় আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর সৌজন্যে কম্বল পেয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সুন্দরবন-ঘেঁষা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের বাসিন্দা রূপবান বিবি (৭৩)।

আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিন দফায় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী, দাতিনাখালী, নীলডুমুর, পোড়াকাটলা, কলবাড়ি, চন্ডীপুর, আড়পাঙ্গাসিয়া; মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিহংড়তলী, চুনকুড়ি, হরিনগর এবং শ্যামনগর উপজেলা সদরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ৩০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এসব গ্রামে গিয়ে আগেই শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের তালিকা তৈরি করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। পরে তাঁদের হাতে টোকেন পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী আজ বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোড় এলাকায় ১৩০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

কম্বল পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের পাচিদাসী মুন্ডা বলেন, এ বছর অনেক শীত পড়ছে। ঠান্ডায় শরীরে কাঁপুনি ধরে যায়। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কম্বল পেয়ে শীত থেকে কিছুটা হলেও উষ্ণতা পাওয়া যাবে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শ্যামনগর উপজেলা সদরে আরও ২০টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল পেয়ে চুনকুড়ি গ্রামের প্রমিলা সরদার (৬৫) বলেন, ‘প্রথম আলো আমাগের ঝড়-বৃষ্টি ও সাইক্লোনে বাঁচতি আশ্রয়কেন্দ্র কুরে দেচ্ছে। বছর বছর শীতে শীতবস্ত্র দেও। কম্বল পাইয়ে শীতে ভেলো থাকতি পাবুনে।’ সিংহড়তলী গ্রামের রহিম কারিগর (৭২) বলেন, ‘শীত কাপড়ের অভাবে ঠান্ডায় খুব কষ্টে আছি। ঠান্ডায় সর্দি-কাশিতে জীবন বারুই য্যাতে। কম্বল পাইয়ে উপকার হবেনে।’

কম্বল বিতরণকালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহসিন বিল্লাহ, মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল কালাম, সিংহড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে আবদুর রব, সহকারী শিক্ষক নেছার আলী ও কল্পনা রানী সরদার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বন্ধুসভার করিমুন্নেসা, রিয়া আক্তার, মলয় চন্দ্র মন্ডল, নাঈমুর রহমান, ওসমান গনি ও রাহাতুল ইসলাম কম্বল বিতরণে সহযোগিতা করেন।

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।