গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ

পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার পর কাপাসিয়ায় ৫ খুন মামলার আসামির হদিস পাওয়া যায়নি : পুলিশ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে, শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে মুঠোফোন রেখে ঝাঁপ দিয়েছেন। সাদ শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্যটি পদ্মা সেতুতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। এর পর থেকে তাঁর (ফারকান) কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর মুঠোফোনটি মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দীন তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই খুনের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে ওই বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযুক্ত ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২৩)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়ে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফোরকানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন শাহাদাত হোসেন। ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুরে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে ফোরকান ও শারমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ঢাকায় বসবাস করলেও ছয় মাস আগে তাঁরা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় থাকা শুরু করেন। ফোরকান প্রাইভেট কারের চালক।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দীন বলেন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মে আসামির (ফোরকান) ব্যবহৃত মুঠোফোনটি মেহেরপুরের সদর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ট্রাকের চালকের সহযোগী (হেলপার) ওই দিন সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে পড়ে থাকা মুঠোফোনটি দেখতে পেয়ে তুলে নিয়ে যান। পরে অনুসন্ধান ও পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার থেকে সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নেমে আসেন। পরে তিনি মুঠোফোন পাওয়ার স্থানে কিছু একটি রেখে ২-৩ মিনিট অবস্থান করেন এবং একপর্যায়ে সেতুর রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন।

শরীফ উদ্দীন আরও বলেন, পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ওই ব্যক্তি আসামি ফোরকান মোল্লা (৪০)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যা করার পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।