গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধার করার অনুরোধ জানিয়ে পালিয়ে গেছেন স্বামী। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রতিবেশীরা জানান, নিহত ঝর্ণা আক্তার জংলাপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের মেয়ে। দুই বছর আগে নিজের পছন্দে মো. অপু নামের এক যুবককে বিয়ে করে। অপু পেশায় মিনিবাসচালক। বিয়ের পর থেকে তারা জংলাপাড়া এলাকায় মাসুদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকত। ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকেই ঝর্ণার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক লাভলী আক্তার বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়া তানিয়াকে মুঠোফোনে কল করেন অপু। ফোনে জানান, তিনি তাঁর স্ত্রী ঝর্ণাকে হত্যা করেছেন এবং কেউ যেন লাশটি উদ্ধার করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝর্ণার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
নিহত ঝর্ণার বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে ঝর্ণা ও অপু নিজেদের মতো বিয়ে করে। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঝর্ণার কোনো যোগাযোগ ছিল না। গতকাল রাতে তাঁকে জানানো হয় ভাড়া বাড়ির কক্ষ থেকে মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হামিদুলের ধারণা, তাঁর মেয়েকে অপু হত্যা করে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী অপু পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।