ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জীর্ণ অবস্থা। সম্প্রতি তোলা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জীর্ণ অবস্থা। সম্প্রতি তোলা

সংসদে ফুলবাড়িয়ার সেই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুরবস্থা তুলে ধরলেন সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকায় থাকা টিনশেডের জীর্ণ ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে স্থায়ী স্থাপনার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন–বিষয়ক মনোযোগ আকর্ষণী নোটিশ হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুল হাসান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

চলতি বছরের ৩ মার্চ প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকায় ‘উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে অবকাঠামো সমস্যা, চিকিৎসক না থাকায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকেরা। এক একর জমি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির থাকলেও বেশির ভাগ জমি বেহাত হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জীর্ণ অবস্থার কারণে নাগরিকেরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জীর্ণ অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদন

বিষয়টি নজরে আসে ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন–বিষয়ক মনোযোগ আকর্ষণী নোটিশে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকায় অবস্থিত প্রাচীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে চার তলাবিশিষ্ট পাকা স্থাপনা ও বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান কামরুল হাসান। একই সঙ্গে উপজেলার ৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকে জনবল–সংকট নিরসন, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, জনবল বৃদ্ধির দাবি জানান।

সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর স্বাস্থ্য খাতে কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অবকাঠামো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত একটি টিনশেড স্থাপনা। স্থাপনাটিতে গত দেড় দশকে কোনো সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে বদ্ধপরিকর। আগামী অর্থবছরে ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন শুরু করার বিবেচনাধীন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতির আলোকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। সে আলোকে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত ও মানিবক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রী এর ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো)

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ অবস্থায় চলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে নতুন স্থাপনার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী, এতে আমরা খুশি। আশা করি, দ্রুত এটি বাস্তবায়ন হবে। সকল সংকট কাটিয়ে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে।’