গাইবান্ধা রেলস্টেশন

চাহিদার তুলনায় ট্রেনের আসন কম, যাত্রীদের ভোগান্তি

গাইবান্ধা জেলার মানচিত্র
গাইবান্ধা জেলার মানচিত্র

গাইবান্ধা থেকে মাত্র দুটি আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকায় চলাচল করছে। দুটি ট্রেনে গাইবান্ধার জন্য আসন বরাদ্দ মিত্র ১৫৪টি। আর চাহিদা এর দ্বিগুণ। ফলে বগির ভেতরে জায়গা না পেয়ে যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছেন। ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকে যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গাইবান্ধা রেলস্টেশন সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিদিন দুপুরে লালমনিরহাট থেকে আন্তনগর লালমণি এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকায় যাতায়াত করছে। এ ট্রেনে প্রতিদিন গাইবান্ধার জন্য টিকিট বরাদ্দ ৮৭টি। এর মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (কেবিনসহ) ২৭টি ও শোভন চেয়ার ৬০টি।

এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে রংপুর থেকে আন্তনগর রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকায় যাতায়াত করছে। এ ট্রেনে প্রতিদিন গাইবান্ধার জন্য টিকিট বরাদ্দ ৬৭টি। এর মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (কেবিনসহ) ১৭টি ও শোভন চেয়ার ৫০টি। অর্ধেক টিকিট অনলাইনে ও অর্ধেক রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে।

রেলস্টেশন সূত্র আরও জানায়, স্বাভাবিক সময়ে দুটি ট্রেনে দৈনিক টিকিটের চাহিদা ৩০০টি। ঈদের সময় দৈনিক চাহিদা দাঁড়ায় ৯০০ থেকে ১ হাজার। ফলে ঈদের পরদিন থেকে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ছাদে, বগির ভেতরে যত্রতত্র ভ্রমণ করছেন।

গত শনিবার দুপুরে রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আন্তনগর লালমণি এক্সপ্রেসের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ ট্রেনের ছাদে উঠছেন। পুলিশ যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কেউ বগির ভেতরে যাতায়াতের রাস্তায়, কেউ করিডরে বসে যাচ্ছেন, কেউ দুই বগির সংযোগস্থলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বগির ভেতরে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা নেই যাত্রীদের গাদাগাদিতে।

শনিবার ভিড়ের মধ্যেই ট্রেনে উঠছেন গাইবান্ধা শহরের পৌর মার্কেটের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া। তিনি বলেন, মালামাল আনতে প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় যেতে হয়। টাকাপয়সা নিয়ে যাতায়াত করেন। তাই ট্রেনকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু ট্রেনের টিকিট পাওয়া দুষ্কর। কে কখন অনলাইনে ঢুকে টিকিট কিনছেন, বোঝা যায় না। তাই দাঁড়ানো টিকিট নিয়েই ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামের চাকরিজীবী ফরিদ মিয়া বলেন, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। বাড়িতে তাঁর মা অসুস্থ। তিনি বাসে ভ্রমণ করতে পারেন না। তাঁকে নিয়ে ঢাকায় ফিরতে হবে। ১২ জুলাই ছুটি শেষ হয়েছে। টিকিট না পাওয়ায় ঢাকায় মাকে নিয়ে ফিরতে পারছিলেন না। ট্রেনে ভিড় দেখে ফিরে যাচ্ছেন।

গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করায় কালোবাজারে টিকিট বিক্রি বেড়েছে। ফলে অনলাইনের সুফল সাধারণ যাত্রীরা পাচ্ছেন না। কারণ, গাইবান্ধায় টিকিটের বরাদ্দ কম। অথচ জেলায় ২৬ লক্ষাধিক লোকের বসবাস।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, কাউনিয়া থেকে পীরগাছা, বামনডাঙা, গাইবান্ধা, বোনারপাড়া, বগুড়া, সান্তাহার হয়ে ঢাকাগামী অন্তত আরও দুটি ট্রেন চালু করা দরকার। এ রুটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনও চালানো যেতে পারে। এতে রেলের আয়ও বাড়বে এবং এ অঞ্চলের যাত্রীরা সুবিধা পাবে। নতুবা সব সময় তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।

গাইবান্ধা স্টেশনমাস্টার মো. আবুল কাশেম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের বরাদ্দ না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ছাদে, বগির ভেতরে যত্রতত্র ভ্রমণ করছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গাইবান্ধায় টিকিটের বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।