
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড় মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোট গ্রহণ চলাকালে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। হাইকোর্টে গিয়ে আইনি লড়াইয়ে প্রার্থিতা ফিরে ছয় দিন পর প্রতীক বরাদ্দ পান তিনি।
হাবিবাকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি তাঁকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এরপর হাবিবা লুটিয়ে পড়েন। কোনোমতে সামলে উঠে দাঁড়ালেই আবার তাঁকে একটি থাপ্পড় মারা হয়। এরপর হাবিবার সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে রক্ষা করেন। সে সময় আরেক ব্যক্তি মারধর করা ব্যক্তিকে নিয়ে দূরে সরে যান।
স্থানীয় লোকজন বলেন, চড়থাপ্পড় মারা ওই ব্যক্তির নাম রজব আলী। তিনি পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
ঘটনার পর দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন হাবিবা বেগম। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের সামনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন এবং ভোট চাইছিলেন এই বলে যে আগে তিনি প্রচারণায় আসতে পারেননি, তারপরও ভোটাররা যেন তাঁকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন। তাঁর এই প্রচারণায় বাধা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা রজব আলী। এ সময় কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাঁকে চড়থাপ্পড় মারা হয়। তাঁকে চড় মারার পর থেকে তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। বিকেল চারটার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী প্রতিনিধি আকবর হোসেন বলেন, ‘একজন নারী প্রার্থীর গায়ে এভাবে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঘটনা বলে তিনি দায় এড়িয়ে গেছেন। আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও জানাব। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রজব আলী মুঠোফোনে বলেন, তিনি জানতেন না যে ওই নারী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী। তিনি ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট চাচ্ছিলেন। আজ তো ভোট চাওয়ার দিন নয়। সেজন্য তিনি নিষেধ করেন। তখন ওই নারী গালি দেন। তিনিও একটি থাপ্পড় মারেন।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া নিয়ে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু মারধরের ঘটনা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’