হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর পাশে তার মা। গতকাল সকালে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর পাশে তার মা। গতকাল সকালে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

আলীকদমের কুরুকপাতায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আরও ১০ শিশু

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ১০ শিশুকে আনা হয়। এ নিয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়ন থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৩১ শিশু। এর মধ্যে ২৭ শিশু আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চার শিশু লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সিনিয়র স্টাফ নার্স মামুনুর রশিদ বলেন, চার দিন ধরে হামের উপসর্গের রোগীর চাপ বেড়েছে। গত বুধবার রোগী ছিল ৯ শিশু এবং গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ১৭ শিশু। আজ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. সোলাইমান আহমদ বলেন, আলীকদমের আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কুরুকপাতার পাশাপাশি লামার রূপসীপাড়া ইউনিয়ন থেকেও হামের দুই রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গুরুতর এক শিশুর চিকিৎসা বাড়িতেই

কুরুকপাতা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে হামের উপসর্গ থাকা দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর। তারা হলো প্রেনরাও ম্রো (৯) ও মেনপ্রে ম্রো (১০)। তাদের গতকাল রাতে লামা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তবে হাসপাতালে ভিড় ও অপরিচিত পরিবেশে শিশুর অভিভাবকেরা প্রথমে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফিরে আসেন। তবে হামের উপসর্গ থাকায় ওই দুই শিশুকে সেখানে ভর্তি নেওয়া হয়নি। পরে ওই দুই শিশুর একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও আরেকজনকে বাড়ি নিয়েই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুদের সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া লেংরাও ম্রো বলেন, হাসপাতালে পরিবেশ অনুকূল না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আজ সকালে শিশু প্রেনরাও ম্রোকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও গুরুতর অসুস্থ মেনপ্রে ম্রোকে তার বাবা আলীকদমে নিয়ে গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হবে।

হামের উপসর্গ থাকা শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন মা। গতকাল সকালে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাশিবিরের দাবি

কুরুকপাতা ইউনিয়ন মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা। এই ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার মানুষ বসবাস করে। এর বেশির ভাগই ম্রো সম্প্রদায়ের। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে প্রতি গ্রীষ্মে ওই এলাকায় ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, হাম ও জলবসন্তের প্রকোপ দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে কুরুকপাতায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল দুজন ও গত মঙ্গলবার একজনের মৃত্যু হয়েছে।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নের অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের হাসপাতালে আসা–যাওয়ার অভ্যাস নেই। অথচ আক্রান্তের সংখ্যা সেখানেই বেশি। আলীকদম–জানালিপাড়া–পোয়ামুহুরী সড়কের পাশের কিছু পাড়া থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রোগীদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তবে কুরুকপাতা বাজার ও ধরীপাড়া এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসাশিবির স্থাপন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবের কারণে দুর্গম এলাকায় এসব রোগের বিস্তার বেশি হয়। কুরুকপাতার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের হার বেশি। সেখানে ইতিমধ্যে দুটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতে তিনি আগামীকাল শনিবার আলীকদমে যাবেন।