
সড়কে বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে পানি। পানির কারণে গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। যেটুকু অংশ দেখা যাচ্ছে, তাতে পিচের (কার্পেটিং) অস্তিত্বই নেই। আরেক অংশে এক থেকে দেড় লেন কাদার নিচে চাপা পড়েছে। কাদাপানিতে একাকার সড়ক দিয়ে গাড়ি তো দূরে থাক, মানুষ হেঁটে চলাচলের উপায় নেই। সড়কের কাদা পাশের দোকানপাটের সামনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ দুরবস্থা নগরের অন্যতম প্রধান সড়ক বিমানবন্দর সড়কের ইপিজেড এলাকায়। তা–ও এক থেকে দুই মাসের নয়, অন্তত ছয় মাস ধরে এভাবে পড়ে আছে সড়কটি। অবশ্য বছরখানেক আগেই সড়কটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে অবস্থা খুব খারাপ হয়েছে।
বিমানবন্দর সড়কটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল। আছে দুটি ইপিজেড। বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এই সড়ক। আবার চট্টগ্রামের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার মূল সড়ক এটি।
বিমানবন্দর সড়কটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল। আছে দুটি ইপিজেড। বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য আনা–নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এই সড়ক। আবার চট্টগ্রামের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার মূল সড়ক এটি।
নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কটি এভাবে ফেলে রাখলে সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএ এই সড়কের ওপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে। এখন ইপিজেড এলাকায় র্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে সড়কটি ভেঙেচুরে এই বিধ্বস্ত অবস্থা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর সড়কের ইপিজেড এলাকায় প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার অংশে কোনো পিচঢালাইয়ের অস্তিত্ব নেই; বরং চার লেনের সড়কের উভয় পাশে এক থেকে দেড় লেন কাদায় ভরা। এরপর যে অংশ রয়েছে তার বেশির ভাগ ভাঙাচোরা। চট্টগ্রাম নগরে তিন দিন ধরে তেমন বৃষ্টি হয়নি। রোদের তীব্রতাও ছিল বেশি। এর পরও ভাঙা সড়কের বেশির ভাগ অংশে পানি জমে আছে। আবার কোথাও পানি সরে গিয়ে স্পষ্ট হয়েছে খানাখন্দ। এর মধ্যে সতর্ক হয়ে চালকদের গাড়ি চালাতে হচ্ছে। গাড়ির গতি কমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
রাস্তার এমন অবস্থার কারণে আশপাশের দোকানি ও বাসিন্দারা পড়েছেন বিপাকে। তাঁদের চলাচলে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি দোকানের বিক্রিও কমেছে। আসবাবপণ্যের দোকানি মোহাম্মদ মিলন বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে মানুষও চলাচল করতে পারছেন না। ক্রেতা আসবে কোথা থেকে। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন কিছুই বিক্রি হয়নি। যেখানে মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হতো, এখন ৪০–৫০ হাজার টাকা আয় করতে হিমশিম খেতে হয়।
ইপিজেডের ব্যারিস্টার কলেজ এলাকার বাসিন্দা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষার আগে থেকে রাস্তা খারাপ ছিল। তবে বর্ষা শুরুর পর খুব ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে। মাঝখানে ইট–বালু দিয়ে একবার ঠিক করেছিল। বৃষ্টির পর তা ধুয়েমুছে গেছে। এখন রাস্তার কারণে মানুষ ও গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে।
ভাঙা রাস্তার কারণে মানুষও চলাচল করতে পারছেন না। ক্রেতা আসবেন কোথা থেকে। সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন কিছুই বিক্রি হয়নি। যেখানে মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতো, এখন ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করতে হিমশিম খেতে হয়মোহাম্মদ মিলন, ইপিজেড এলাকার দোকানি
নগরের অন্যতম প্রধান সড়কের দুরবস্থার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দর সড়কের সংস্কার নিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন সিডিএর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিডিএ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করতে গিয়ে নালা ভেঙে ফেলেছে। এতে নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পানি রাস্তায় জমে আছে। ফলে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি শেষ হলেই সড়কটি পিচঢালাই করে দেবে সিডিএ। নালার কাজও করবে। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আড়াই লাখ ইট দিয়ে খানাখন্দগুলো সাময়িকভাবে মেরামত করে দেওয়া হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ এমন বেহাল সড়ক শুধু দুর্ভোগের নয়, নগরের জন্য লজ্জারও বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় একটি ব্যবসায়িক কাজে যেতে গত সপ্তাহে এই সড়ক দিয়ে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন; কিন্তু সড়কের যে অবস্থা, তাতে গাড়িই চালানো যাচ্ছিল না। শুধু তা–ই নয়, কিছুদিন আগে বিদেশি বিনিয়োগকারী চট্টগ্রামে এসেছিলেন। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে আসার পর রাস্তার খারাপ অবস্থা নিয়ে তাঁদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আমদানি–রপ্তানি ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দ্রুত ঠিক না করে সিটি করপোরেশন এভাবে ফেলে রাখল কেন, তো বোধগম্য নয়।