পশ্চিম সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকা
পশ্চিম সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকা

মুক্তিপণ দিয়ে ১০ জেলের মুক্তি, সুন্দরবনে এখনো জিম্মি ৯

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের ছয় দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ১৯ জেলের মধ্যে ১০ জন বাড়িতে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজেদের বাড়ি ফেরেন তাঁরা। তবে মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় এখনো ৯ জেলে বনদস্যুদের জিম্মায় আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে ২২ জানুয়ারি পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে ১৯ জেলেকে অপহরণ করা হয়।

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের আবু তাহের ও আবুল কালাম বলেন, সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ ধরার সময় ৮-১০ সদস্যের একটি বনদস্যু দল নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে জেলেদের নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। পরে মাথাপিছু ২৫-৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

জেলেরা বলেন, অপহরণের পর তাঁদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রায়মঙ্গল নদীতে আটকে রাখা হয়েছিল। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর গতকাল রাতে ১০ জন জেলে লোকালয়ে ফিরে আসেন। অন্যরা মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে না পারায় এখনো জিম্মিদশায় আছেন।

টাকা দিয়ে মুক্তি পাওয়া জেলেদের মধ্যে কদমতলা গ্রামের ইব্রাহিম গাজী, দিলীপ ও উজ্জ্বল ৪০ হাজার টাকা করে, চুনকুড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী ৪০ হাজার, হরিনগর গ্রামের আবু তাহের ও আবুল কালাম ৩৫ হাজার টাকা করে, চুনকুড়ি গ্রামের সাদেক আক্কাস ৩০ হাজার, ছোট ভেটখালি গ্রামের আসাদুল গাজী ৩০ হাজার, গাবুরা গ্রামের আইয়ুব আলী ২৫ হাজার এবং হরিনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের অভিযোগ, শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের শফিকুল ও শাহাজান নামের দুই ব্যক্তি ‘ডন বাহিনী’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এখনো কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেননি।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলুল রহমান জানান, ২২ জানুয়ারি জেলেদের অপহরণের তথ্য তারা ২৩ জানুয়ারি জানতে পারেন। পরে দোবেকি ও পুষ্পকাটি কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি বলেন, অপহৃত জেলেদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে—কখনো ১৮ জন, আবার কখনো ২০ জন বলা হচ্ছে।

ফজলুল রহমান বলেন, জেলেরা অপহরণের ঘটনা অনেক সময় বনদস্যুদের সঙ্গে টাকা দিয়ে রফা করে ফেলেন। বন বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন—এই ভয়ে তারা অভিযোগ করেন না। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।