
ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি শোভাযাত্রায় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বরিশাল। শুক্রবার বিকেলে নগরের বেলস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় দুই দলের সমর্থকেরা বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। এ সময় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা, জার্সি ও নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক।
বিকেল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই দলের সমর্থকেরা দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে বেলস পার্কে জড়ো হন। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আকাশি-সাদা জার্সি ও পতাকা নিয়ে একদিকে এবং অন্যদিকে হলুদ-সবুজ জার্সি ও পতাকা নিয়ে পৃথক শোভাযাত্রা বের করেন ব্রাজিলের সমর্থকেরা। নগরের সদর রোড, চকবাজার, নথুল্লাবাদ, বাংলাবাজার, ফজলুল হক অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাঁরা আবার বেলস পার্কে ফিরে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, দুই দলের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান, গান ও উল্লাসে মেতে ওঠেন। অনেক মোটরসাইকেলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বিশাল আকৃতির পতাকা উড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ প্রিয় ফুটবল তারকাদের ছবিসংবলিত ব্যানারও বহন করেন। শোভাযাত্রা চলাকালে পথচারী ও সাধারণ মানুষকে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেখা যায়। অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
বেলস পার্ক এলাকায় জড়ো হওয়ার পর দুই দলের সমর্থকেরা নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশে খুনসুটি ও স্লোগান বিনিময় করেন। যদিও মাঠের খেলায় দুই দল পরস্পরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী; তবে আয়োজনজুড়ে ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একজন বলেন, ‘ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি আবেগেরও নাম। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং সমর্থকদের একত্র করতেই আমরা এই আয়োজন করেছি।’
ব্রাজিল সমর্থকদের একজন বলেন, ‘বরিশালে ফুটবলপ্রেমীদের সংখ্যা অনেক। দীর্ঘদিন পর এমন একটি আয়োজন করতে পেরে ভালো লাগছে। এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়; বরং ফুটবলকে ঘিরে আনন্দ ভাগাভাগির একটি উপলক্ষ।’
বরিশালে ক্রীড়া সংগঠক মাহবুব মোরশেদ (শামীম) বলেন, খেলাধুলা ঘিরে এমন ইতিবাচক আয়োজন তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু পুরোনো হলেও বরিশালে দুই দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণে এত বড় পরিসরে উৎসবমুখর শোভাযাত্রা এবারই প্রথম দেখা গেল। আয়োজনটি নগরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের কাছে এক ভিন্নমাত্রার আনন্দ-উৎসবে পরিণত করেছে।