
মাত্র দুই মাস পর দেশে ফেরার কথা ছিল কাদির আহমদের (২৪)। পরিবারও তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ছিল। এমনকি দেশে ফিরে বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আর জীবিত ফিরতে পারলেন না কাদির। কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি পিকআপ ভ্যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ছয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহত ব্যক্তিদের একজন কাদির আহমদ। তিনি উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিন ও ফাতিমা বেগম দম্পতির ছেলে। পাঁচ ভাই–বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বছর আগে কাদির কাতারে যান। এক মাস আগে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে কাজের কারণে ছুটি পিছিয়ে যায়। আরও তিন মাস পরে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন কাদির। আর মাত্র দুই মাস পরই দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। তিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
কাদিরের চাচা জয়নাল আবেদিন বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাতার থেকে কাদিরের মৃত্যুর খবর আসে। প্রথমে বিষয়টি কাদিরের মাকে জানানো হয়নি। তবে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখে পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এর পর থেকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
জয়নাল আবেদিন আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী রইছ উদ্দিনের ছেলে ফয়ছল আহমদ প্রায় এক মাস আগে দেশে ফিরেছেন। কাদিরেরও একই সময়ে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কাজের চাপের কারণে সে ছুটি পিছিয়ে দেয়। দেশে ফিরে তার বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য বাড়ির নির্মাণকাজও প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।’
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান শাকিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল লতিফ জানান, নিহত অন্য চারজন হলেন উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ (৩০), মৃত আহসান উল্লাহর ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০) ও আমরপুর গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৬)।