
খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার একটি রিসোর্টের মালিক (পরিচালক) ও দুই পর্যটককে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। একটি ডিঙিনৌকা নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে ঘুরতে গিয়ে বনদস্যুদের কবলে পড়েন তাঁরা।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের ঘাগরামারী টহল ফাঁড়িসংলগ্ন কেনুয়ার খালে এ ঘটনা ঘটে। তবে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। অপহৃত রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়ের ছোট ভাই উত্তম বাছাড় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (আরওএএস) এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে তাঁরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে আছেন। অপহরণকারীদের শনাক্ত করা গেছে। গোলকানন নামের রিসোর্টটি এনজিও ফান্ডে তৈরি। এটি স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই রিসোর্ট তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। এ ঘটনায় গোলকানন রিসোর্টের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে কোস্টগার্ড, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাংমারী এলাকায় গোলকানন নামের একটি রিসোর্টে ঢাকা থেকে ৫ পর্যটক ঘুরতে আসেন। পর্যটকসহ মোট সাতজনকে নিয়ে একটি ডিঙিনৌকা শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের খালে প্রবেশ করে। এর কিছু পরেই ‘মাসুম বাহিনী’ নামের একটি বনদস্যু দল তাঁদের মারধর করে তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তবে কত টাকা চাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলছেন না। অপহরণের সময় ওই নৌকায় থাকা রিসোর্টের আরেকজনকে মারধরের পর তাঁকে ও দুই নারী পর্যটককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুম বাহিনীর সদস্যরা নতুন। তাঁদের প্রায় সবাই তরুণ। বাহিনীর প্রধান মাসুমের নানাবাড়ি দাকোপ উপজেলার লাউডোপ এলাকায়। পাঁচ–ছয় মাস আগেও গোলকানন রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়কে একবার অপহরণ করেছিল মাসুম বাহিনী। তখন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেও বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি।
খুলনার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন দুই পর্যটক মো. সোহেল ও জনি এবং রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়। তাঁদের উদ্ধারে থানা, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।