
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি বিক্রি–সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। সংঘর্ষ থামাতে গেলে সুনামগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের পায়ে ঢিল লেগে তিনি আহত হন। পরে তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জাউয়াবাজার এলাকার বাজারের কিছু জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দুই দিন ধরে উত্তেজনা ছিল। এর জেরে শুক্রবার রাত আটটার দিকে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রাত নয়টার দিকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। প্রথমে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। পরে ছাতক থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পাশের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের অনেকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে ফেরার পথে সেখানে আটকা পড়েন। পরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁর পায়ে ঢিল লাগে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ কাজে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘আমার পায়ে ঢিল লেগেছিল। গুরুতর কোনো আঘাত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।’