
পঞ্চগড়-১ (সদর-তেঁতুলিয়া-আটোয়ারী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমির এবং ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান পৃথকভাবে তাঁদের এ নোটিশ পাঠান।
পৃথক নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি অমান্য করে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যবহার, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীর অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সারজিস আলমকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় আপনার নির্বাচনী জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেছেন। আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭ এর (চ) অনুযায়ী দফা (ঙ)-তে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হলে সে ক্ষেত্রে তিনি কেবল তাঁর বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি, ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ছাপাতে পারবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। অথচ আপনি নিজ দলীয় প্রধান ব্যতীত অন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে ছবি দিয়ে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার বিধি ৭ (চ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘আচরণবিধিতে তোরণ নির্মাণ না করার নির্দেশনা থাকলেও আপনি তিনটি তোরণ নির্মাণ করেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে ১০-দলীয় জোটের জনসভায় গেট বা তোরণ নির্মাণ করে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩ (ক) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এ ছাড়া আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৬ (ক)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি ৭ (চ), ১৩ (ক) ও ১৬ (ক) লঙ্ঘনের দায়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, ‘গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় পুলিশ ও পঞ্চগড় পৌরসভার সহযোগিতায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঞ্চগড় এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধিমালা প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে অভিযান চালান। এ সময় আপনার বা আপনার কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে প্রথমে আচরণবিধির ১৩ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০-দলীয় জোটের তিনটি তোরণের মধ্যে দুটি তোরণ পৌরসভার সহযোগিতায় অপসারণ করেন। পরে করতোয়া ব্রিজের (সেতু) দুই পাশে আচরণবিধি ৭ (গ) লঙ্ঘন করে স্থাপিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে ফেস্টুন অপসারণ শুরু করা হয়। এ সময় আপনার কয়েকজন নেতা-কর্মী এ কাজে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আচরণবিধিমালায় ফেস্টুনের আকার ১৮ ইঞ্চি x ২৪ ইঞ্চি অনুমোদিত হলেও আপনি আনুমানিক ৬ ফুট x ৩ ফুট আকারের ফেস্টুন স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে বিধি ৭ (৩) লঙ্ঘন করা হয়েছে। আপনাদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তৈরি করা ফেস্টুন অপসারণের জন্য বলা হলেও অপসারণ করেননি। পরে ওই সব ফেস্টুন অপসারণ করতে গেলে আপনার কর্মীদের বাধার কারণে তা অপসারণ করা যায়নি।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘আচরণবিধিমালা অনুযায়ী আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৬ (ক) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া আপনার কর্মী-সমর্থকেরা নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং তাঁকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েত হয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন এবং সরকারি গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি প্রদান করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৫(গ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নির্বাচনী আচরণবিধি ৭ (গ), ৭ (৩), ১৩, ১৫ (গ) ও ১৬ (ক) ভঙ্গের দায়ে ও সরকারি প্রচারণা গণভোটের প্রচারণা ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দেওয়ায় কেন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীর বা প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় নোটিশে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে সারজিস আলমের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ও ছোট ভাই নওফেল জমির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নোটিশটি পেয়েছি। এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’