প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মাঝি টেঙরাইল গ্রামে ৫০ জন শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মাঝি টেঙরাইল
গ্রামে ৫০ জন শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ

‘তোমাগোর কম্বলে আমার জাড়ের কষ্ট দূর ওইবো’

‘এবার জাড়ে (শীতে) অনেক কষ্ট করছি। এহুন তোমাগোর কম্বলে আমার জাড়ের কষ্ট দূর ওইব। যারা কম্বলের জন্য দৌঁড়ায়, তারাই শুধু বারেবারে পায়। আমরা দৌড়াইব্যার পারি ন্যা, তাই আমাগোরে কেহই কিছু দেয় না।’ কম্বল হাতে পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই হাওলাদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খইতুন বেওয়া (৮৫)।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের তামাই হাওলাদারপাড়া পুনর্বাসন মাঠে ১০০ জন শীতার্ত মানুষকে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। প্রথম আলো বন্ধুসভার সিরাজগঞ্জের সদস্যরা তাঁদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন।

কম্বল পাওয়া তামাই কুঠিপাড়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৭৮) বলেন, ‘এবারই প্রথম আপনেগোরে দেওয়া চিলিপ নিয়া কম্বল পাইলাম। খুব খুশি ওইছি। আপনেরা গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় খুঁইজ্যা দেহেন, কার আসলেই দরকার।’

পরে সেখান থেকে বন্ধুসভার প্রতিনিধিদল ছুটে যায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মাঝি টেঙরাইল গ্রামে। ওই গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বী ১৮০টি পরিবারের বসবাস, যার অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মৎস্যজীবী। গ্রামটির মধ্যভাগে শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন শতাধিক নারী-পুরুষ। তাঁদের মধ্যে কম্বল বিতরণের টোকেন পেয়েছিলেন অনেকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের হাতে প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল তুলে দেওয়া হয়। পরে সিরাজগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় ছিন্নমূল মানুষের হাতে ৫০টি কম্বল তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।

ষাটোর্ধ্ব যমুনা বালা কম্বল দেখিয়ে বলেন, ‘এই কম্বলে আইজ থাইক্যা ওমে থাইকপ্যার পারমু। এবার জাড়ে (শীতে) খুবই কষ্ট পাইছি।’ কম্বল পেয়ে বেশ আনন্দিত দেখাচ্ছিল চুমকি রানীকে (৬৫)। তিনি বলেন, ‘এ কম্বলে আমার মেলা উপকার ওইল।’

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে কম্বল বিতরণে সহায়তা করেন সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্যরা। শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য দুই দিন ধরে তাঁরা দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে শীতার্ত মানুষের মধ্যে টোকেন বিতরণ করেন।

বিতরণের কাজে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার। তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, খবর পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষের জন্য এমন কাজ পত্রিকাটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিতরণ কার্যক্রমে কামারখন্দ নাসরিন ওয়াজেদ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক সরকার, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জ্ঞানেন্দ্র নাথ, নাসরিন ওয়াজেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুক্তা চন্দ্র দাস, টেঙরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকলিমা আজিম, প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুল গণি, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক বিপুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল শেখ, ম্যাগাজিন সম্পাদক আশিস বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাইনা হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক সুমাইয়া জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।