
সকাল তখন প্রায় ১০টা। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সামনের ব্যস্ত সড়কের পাশে বসে কাঁদছিল দুই বোন—জিমি (৮) ও জান্নাতি (৩)। কান্নার শব্দে সেখানে জড়ো হন কয়েকজন, জানতে চান কান্নার কারণ।
জিমি তাঁদের বলে, ‘মা মোক কলো (বলল), তোরা এ্যাটে (এখানে) বসে থাকো, মুই ট্যাকা নিয়ে আওছো (আসছি)। ম্যালাক্ষণ হইছে, মা এহনো আসোছে না।’
ঘটনাটি গতকাল রোববার হিলি স্থলবন্দর–সংলগ্ন হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশু দুটি হাকিমপুর উপজেলার কাঁকড়াবালী গ্রামের জীবন মিয়া ও শাহানাজ পারভীন দম্পতির সন্তান। জীবন মিয়া মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান শাহানাজ। একপর্যায়ে রাগ করে কোলের ছেলেসন্তান ও দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত হওয়ায় জীবন মিয়া প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকেন। তিনি স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন না। অভাব-অনটনের সংসারে স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ১৭ জুলাই রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন জীবন মিয়া। ওই রাতেই তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সাগুরা গ্রামে চলে যান শাহানাজ।
গতকাল সকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান শাহানাজ। একপর্যায়ে রাগ করে কোলের ছেলেসন্তান ও দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। পরে হিলি স্থলবন্দরের সামনের সড়কের পাশে দুই মেয়েকে রেখে কোলের শিশুটিকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান।
এর মধ্যে সড়কের পাশে বসে শিশু দুটিকে কাঁদতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তাঁরা শিশু দুটিকে খাবার কিনে দেন। পরে মুঠোফোনে বিষয়টি হাকিমপুর থানায় জানান। একপর্যায়ে পুলিশের সহায়তায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় শিশু দুটিকে।
খবর পেয়ে পুলিশ হিলি স্থলবন্দরের সামনের সড়ক থেকে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে বলে জানান হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন। তিনি বলেন, জিমির দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গতকাল বিকেলে জয়পুরহাটে তাদের নানির বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে শাহানাজ পারভীনের মা আরজিনা বেগম, ভাই আলী এবং গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দুই শিশুকে তাদের মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।