লক্ষ্মীপুর জেলায় হামের গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শিশু জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর আগে গত তিন মাসে এ রোগের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয় ২০ শিশু। তাদের মধ্যে ৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ছয় বছর, অন্যজনের ১১ মাস। তাদের শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ রয়েছে। এর আগে ভর্তি হওয়া শিশুদেরও জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। চিকিৎসকেরা বলছেন, হামের লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা শুরু করা হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ২০ শিশুর শরীরে হামের সন্দেহজনক সংক্রমণ দেখা গেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন ও চলতি মার্চে এখন পর্যন্ত ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া এ সংক্রমণ নিয়ে ৯ মাসের এক শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ১৯ মার্চ তার মৃত্যু হয়। সে ১৩ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব ও সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াই সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অনেক শিশু এখনো নিয়মিত টিকার আওতায় আসছে না। হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও প্রথমে গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান বলেন, ‘জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক শনাক্ত হওয়া শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
সিভিল সার্জন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে টিকাদানের ঘাটতি ও অসচেতনতার কারণে এ ধরনের সংক্রমণ বাড়ছে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে।