গাজীপুরে বন্ধুসভার উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে কথা বলছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে
গাজীপুরে বন্ধুসভার উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে কথা বলছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে

গাজীপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড

‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যাবে না’

মুক্তিযোদ্ধারা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, সেই ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সাইজুদ্দিন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বিকৃত বা নতুন করে বানানো কোনো ইতিহাস শেখানো উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অবিকৃতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং একাত্তরের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চ মাসজুড়ে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছে বন্ধুসভা। এর অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ সবার জন্য অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রথম আলোর ওয়েব পেজ ও বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সাইজুদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের সাকাশ্বর এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা। তখন জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন। সেই ত্যাগের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয়। তাঁরা যুদ্ধ করেছেন যাতে আগামী প্রজন্ম স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।

প্রথম আলোর গাজীপুর বন্ধুসভার দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক তানিয়া আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক ও লেখক ফারদিন ফেরদৌস, প্রথম আলোর গাজীপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানা, সাংবাদিক এ কে এম শিশির, প্রথম আলোর গাজীপুর বন্ধুসভার সভাপতি বাবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক জি রাবেক তারেক, সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন।

গাজীপুরে বন্ধুসভা আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে

ফারদিন ফেরদৌস বলেন, স্বাধীনতা মানে শুধু দাসত্ব বা শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া নয়; স্বাধীনতা মানে মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ পাওয়া। স্বাধীনতা মানে আনন্দকে জাগিয়ে রাখা আর পরাধীনতা হলো বেদনার নাগপাশে বন্দী থাকা। স্বাধীনতার মাসে এই মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুর রহমান বলেন, শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই তার জন্মভূমি সৃষ্টির প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে, তখন তার মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষকদের উচিত স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস শিশুদের কাছে তুলে ধরা। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের কোনো সন্তান যেন মাদকাসক্ত না হয়, এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানদের প্রতি সব সময় খেয়াল রাখতে হবে এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রভাষক এ জি কায়কোবাদ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিদিনই কিছু সময় হলেও সন্তানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কথা বলা উচিত। এতে তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

গাজীপুরে বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচজনসহ অতিথিরা। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে মো. আরাফাত, দ্বিতীয় তনুজা রায়, তৃতীয় সাজিদ তালুকদার, চতুর্থ সাহেদ ইসলাম ও পঞ্চম হয়েছে তাফফীম হাসান উৎসব। তারা সবাই সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

পরে বিজয়ীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটির সহযোগিতায় ছিলেন প্রথম আলো গাজীপুর বন্ধুসভার সদস্যরা।