
দীর্ঘ ২০ বছর পর আগামীকাল শুক্রবার রংপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি জনসভা করবেন। আগামীকাল বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় রংপরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর সফল করতে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশস্থলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসভায় নেতা–কর্মীদের উপস্থিত থাকতে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে।
তারেক রহমানের রংপুরে নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবিব। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মো. সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক (ভরসা), রংপর-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী গোলাম রব্বানী।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুল হাবিব বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর রংপুরের মাটিতে উনি (তারেক রহমান) আসছেন। এই আনন্দের সংবাদ যখন রংপুর বিভাগের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে যায়, ভোটার ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ আমরা লক্ষ করছি। আমরা মনে করি, আগামীকালের এই জনসভা রংপুরের উন্নয়নের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
আসাদুল হাবিব আরও বলেন, ‘নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পক্ষে এই অঞ্চলে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকালের জনসভার মধ্য দিয়ে এই জাগরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এই জনসভা যদিও এক দিনের প্রস্তুতিতে আমাদের করতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রংপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ মাঠে এই জনসভাস্থল ছেড়ে গোটা রংপুর শহর কাল জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে। সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৩১টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে নেতা–কর্মীরা আসবেন।’
বৃহত্তর রংপুর নিয়ে তারেক রহমানের কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান আসাদুল হাবিব। দাবিগুলো হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিমানবন্দর চালুকরণ, ভারী শিল্প ও গ্যাস সংযোগ, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন, পর্যটনশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বড় বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলার সমন্বয়ে এশিয়ান হাইওয়ে তৈরি, রংপুর বিভাগের বন্ধ হয়ে যাওয়া স্থলবন্দরগুলো চালু ও আধুনিকায়ন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রংপুরের বীর যোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির সভাস্থল রংপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সমাবেশস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদের। তিনি বলেন, ‘আগামীকালের জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ যথাযথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আমরা একজন ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। সমাবেশস্থলের চারপাশের ভবনগুলোতে সাদাপোশাকে পুলিশসহ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে যাতে কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।’