নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দেবীসিংহপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আরাফাত হোসেন (১৫) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই কিশোরসহ তিনজন। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আরাফাত পার্শ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। পৌর হাজীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। সেনবাগে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল আরাফাত।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিহত আরাফাতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সেনবাগের নবীপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হারুনসহ তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা আরাফাতের নানাবাড়ির উঠান ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। পাশেই বসানো হতো মাদকের আসর।
অভিযোগে স্বজনেরা বলেন, কয়েক দিন আগে আরাফাতের মামাসহ ওই বাড়ির বাসিন্দারা হারুন ও তাঁর লোকজনকে মাদক ব্যবসা না করার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু অনুরোধ উপেক্ষা করে হারুন ও তাঁর সহযোগীরা বুধবার রাতে একই জায়গায় মাদকের আসর বসান। এ সময় আরাফাতের নানার বাড়ির লোকজন ধাওয়া করলে মাদকসেবীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হারুনের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন আরাফাতের নানার বাড়িতে হামলা চালান। তাঁরা এ সময় আরাফাতসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত আরাফাতকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে ১১টার দিকে সে মারা যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন নিজেও আহত হন। পরে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে আটক করেছে। জড়িত অন্যদের আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে সেনবাগ থানা–পুলিশ।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে। জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।