জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শারমীন জাহান হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শারমীন জাহান হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার–সংলগ্ন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কের এক পাশে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ পরিবার’ আজ সোমবার দুপুরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের সড়কের এক পাশে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে শহীদ মিনার–সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। মিছিলটি শহীদ মিনারের অদূরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ (জিতু) ও সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সোহাগী সামিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমীন জাহানকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত দেড় বছরে অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, অনেকগুলো নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের পর অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর দৃষ্টান্তমূলক কোনো বিচার হয়নি। যদি এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার না করা হয় তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট থানা ঘেরাও করা হবে। ততক্ষণ অবরোধ করে রাখব, যতক্ষণ না পর্যন্ত এ বিচার নিষ্পত্তি না হয়।’

আহসান লাবিব বলেন, ‘ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাস–সংলগ্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, কিন্তু কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পলিসি নেই। এ ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ রকম অপরাধপ্রবণতা বাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ফ্যাক্টর। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শারমীন হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং সারা দেশে সহিংসতারোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।’

জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ (জিতু) বলেন, শারমীন জাহানের হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভুক্তভোগীর পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জাকসু এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, যাঁরা এই ক্যাম্পাস–সংলগ্ন আশপাশ এলাকায় পড়াশোনার জন্য থাকেন, তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাভারে ভাড়া বাসা থেকে গতকাল রোববার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শারমীন জাহানের (২৩) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে। ঘটনার পরপরই ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে গতকাল দিবাগত রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।