
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাদা দলের শিক্ষকদের হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সাদা দলের শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রক্টরসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের এক শিক্ষক ঠোঁটে আঘাত পেয়েছেন এবং অন্যদেরও কিল–ঘুসি মারা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দাবি, শান্তিপূর্ণ আলোচনায় না গিয়ে মব সৃষ্টি করতে সাদা দলের এক পক্ষের শিক্ষকেরা তাঁর কক্ষে গিয়েছিলেন। তাঁদের হামলায় তাঁর হাতের আঙুল ফেটে গেছে। সেখানে উপস্থিত অন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা করা হয়েছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সহসভাপতি মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিভিন্ন অনিয়ম–দুর্নীতি করছেন। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে বাইরে থেকে জনবল নিয়োগ দিচ্ছেন। নির্বাচনের বন্ধের সময়ও রাতের অন্ধকারে নিয়োগপক্রিয়া চালিয়ে গেছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এসবের অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষৎ করতে সাদা দলের শিক্ষকেরা তাঁর কক্ষে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে উপাচার্য তাঁদের কথা না শুনে তাঁর পক্ষের লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তাঁদের কিল-ঘুসি মারা হয়েছে। এতে মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল নামের এক শিক্ষকের ঠোঁট ফেটে গেছে। আহত শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য শিক্ষকেরাও আহত হয়েছেন।
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, সাদা দলের শিক্ষকেরা বঞ্চিত ছিলেন। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদের দোহাই দিয়ে কয়েকজন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়গুলো বলায় উপাচার্য উত্তেজিত হন। তাঁর নেতৃত্বে প্রক্টর জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে রোববার দুপুরে সাক্ষাৎ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক, সিদ্দিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, বর্তমান সভাপতি মেহেতাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কাউসার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ নাজমুল হক, সদস্য জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন গিয়েছিলেন।
প্রক্টর জসিম উদ্দিন বলেন, যে কথাগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে মূল ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাদা দল মব সৃষ্টি করতে গিয়েছিল। উপাচার্যের চেম্বারে গিয়ে তাঁরা গালিগালাজ করে তেড়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। উপাচার্যের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি বিষয়টি করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে জড়িয়ে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলিমুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমান যে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের লোকজন আছে, তাদের সরিয়ে দিতে এবং মব সৃষ্টি করে ঝামেলা তৈরি করতে তারা (সাদা দল) এসেছিল। তাঁরা কিন্তু অতীতে ওই দায়িত্বে ছিলেন। যেমন প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, অ্যাডভাইজার এই সকল দায়িত্বে ছিল তারা। এখনো কিন্তু ওই গ্রুপের...এখানে দুইটি গ্রুপ আছে সাদা দলের। যারা এসেছিল, তারা সংখ্যায় কম। এখানে যারা সংখ্যায় বেশি, তারা আমার প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত। যারা এসেছিল, তাদের ওখান থেকে কিন্তু চারজন দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনজন প্রভোস্ট ও একজন ডিরেক্টর। কিন্তু তারা বাকি পদগুলো আবার ফিরে পেতে চাচ্ছে। তাদের ভাষ্য—নির্বাচনের অজুহাত দিয়ে আপনি (উপাচার্য) তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আসছেন। এখন আপনি বিএনপি করলেও আমরা ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত। আমাদেরকে এই পদগুলো ফিরিয়ে দিতে হবে।’
মো. আলিমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসত, আলোচনা করত, গ্রুপ ইউনাইটেড হয়ে আসত যদি, তখন সেটা আলাদা। তারা বলে—আমরাই একমাত্র সাদা দল বিলং করি, অন্যরা না। বহু কথাবার্তা বলে। একপর্যায়ে আমার এক কলিগকে জোর করে ফ্যাসিস্ট বানাচ্ছে। স্বাভাবিক কারণে তখন তিনি একটু রিঅ্যাক্ট করেছেন। তখন তারা তাঁকে মারতে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি। আমি ভিডিও করতেছিলাম। তখন আমার মোবাইলটাও কেড়ে নিছে। এইভাবে কিন্তু তারা মব সৃষ্টি করে চলে যায়। এখন আমাদের তিনজন শিক্ষক ইঞ্জুরড, আমি নিজেও। আমার একটি হাতের আঙুল ফেটে গেছে।’ উপাচার্য এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার না দেওয়ার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ছয়জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের। আর রাতের অন্ধকারে কিংবা বন্ধের সময় কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি।