ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। শনিবার দুপুরে তোলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। শনিবার দুপুরে তোলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

কওমি ছাত্র ঐক্যের আপত্তি সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়েই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে চায় ছাত্রদল

জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিতের দাবি জানালেও অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়েই হবে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল। আজ শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ওরফে জিমি হৃদয় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ কথা জানান।

এদিকে এ ঘোষণার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে আপত্তি তুলে তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়।

একই দাবিতে গতকাল শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা জরুরি।

এ নিয়ে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সকাল নয়টায় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। বিষয়টি নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সঙ্গে কিছুটা আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাকে ডেকেছেন। আমি যাচ্ছি। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরাও সেখানে আছেন। পরে কথা বলব।’

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে এসেছি। আলোচনা শেষে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে আমাকে প্রধান অতিথি করেছিল। অনুষ্ঠানটি নিতান্তই সরকারি কলেজের এবং সিদ্ধান্তও তারাই নেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা আয়োজন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে খালেদ হোসেন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি হয়তো ধারণা থেকে বলেছেন। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা হয় না, এমনটা আমি বিশ্বাস করি না।’

এদিকে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাত পৌনে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগের ঘোষণা অনুযায়ী নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে। সেখানে সংসদ সদস্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আর মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে, কিন্তু কনসার্ট হবে না। বড়দের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত আপনাদের জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এর আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়।