নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন লাঙন প্রতীকের প্রার্থী শামিম আরা পারভীন। রোববার খুলনার শিরোমনি বাজারে
নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন লাঙন প্রতীকের প্রার্থী শামিম আরা পারভীন। রোববার খুলনার শিরোমনি বাজারে

খুলনায় নারী ভোটার বেশি, প্রার্থী মাত্র একজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন মাত্র একজন। নগরের দুটি আসনে কোনো নারী প্রার্থী নেই। জেলার চারটি আসনের মধ্যে কেবল একটি আসনে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খুলনার ছয়টি আসনে মোট ভোটারের ৫০ দশমিক ২ শতাংশ নারী হলেও প্রার্থীদের মধ্যে নারী মাত্র আড়াই শতাংশ। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনে ১০টি দলের ও স্বতন্ত্রসহ ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ২ জন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ১ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ জন। অর্থাৎ নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের তুলনায় বেশি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, খুলনার ছয়টি আসনে বিএনপির ছয়জন, জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। খেলাফতে মজলিস একটি আসনে, জাতীয় পার্টি চারটি আসনে এবং সিপিবি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ইসলামী ফ্রন্ট, জেএসডি, বাসদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ সম–অধিকার পরিষদ ও এনডিএম একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির একজন নারী প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শামিম আরা পারভীন। যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও পরে আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

জেলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় আসন খুলনা-৫। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৪ জন। এই আসনেও নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি।

খুলনা-৫ আসনে শামিম আরা পারভীনের বাইরে আরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগার এবং কাস্তে প্রতীকে সিপিবির চিত্ত রঞ্জন গোলদার।

প্রতিদিনই শামিম আরা পারভীন আসনের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নিজস্ব স্বজন ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর এই প্রচারণা চলছে। গতকাল রোববার তিনি খুলনা-৫ আসনের ফুলতলা বাজার ও শিরোমণি বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। প্রচারণায় ‘লাঙ্গলে মঙ্গল’ স্লোগান নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

এর আগেও সংসদ নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ (নড়াইল সদর-কালিয়া) আসন থেকে জাতীয় পার্টি–জেপির প্রার্থী হিসেবে বাইসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন শামিম আরা পারভীন। সে নির্বাচনে তিনি মোট ৫১৫ ভোট পেয়েছিলেন।

শামিম আরা পারভীন জানান, তিনি খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার বাসিন্দা। তিনি প্রথমে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। পরে দলের সিদ্ধান্তে খুলনা-৫ আসন থেকে প্রার্থী হন। নিজেকে তিনি জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, খুলনা মহানগর শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক এবং খুলনা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

শামিম আরা পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখনো কোনো ঝামেলা দেখিনি। এই এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিপর্যয়। এসব সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করব। নারীদের উন্নয়ন ও সবার কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার দল ক্ষমতায় এলে মসজিদের ইমামদের বেতনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নারী হিসেবে রাজনীতিতে টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং মন্তব্য করে শামিম আরা পারভীন বলেন, ‘এটিকে আমি নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শক্তিশালী হলেও জয়ের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’