দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

মৃত ও প্রবাসীদের দেখিয়েছেন শ্রমিক, ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ ৫৫ প্রকল্পের টাকা

ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা। শুধু এটুকুই নয়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের দেখানো হয়েছে শ্রমিক। এরপর তাঁদের নামে টাকা তুলে করা হয়েছে আত্মসাৎ।

এমন অভিযোগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এনায়েত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন।

মামলার বিষয়টি দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এনায়েত হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মৃত ও প্রবাসীদের শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে ইজিপিপি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে জাল ভাউচারসহ নানা অনিয়ম করেছেন। এসব অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলাতেই আসামি হিসেবে রয়েছেন এনায়েত হোসেন।

ভুয়া ভাউচারে ৫৫ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক। অনুসন্ধানে প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।

ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া ৫৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাঁদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুয়া ভাউচারের মামলায় এনায়েত হোসেন নয়ন ছাড়াও আসামিদের মধ্যে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী রয়েছেন।

মৃত ব্যক্তিদের নামে টাকা উত্তোলন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইজিপিপি প্রকল্পের ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে একটি মামলায়। এজাহারে বলা হয়েছে, ভুয়া ও মৃত ব্যক্তিদের শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়। আবার অনেক শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম অবাক হন। একই এলাকার মোস্তফার মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকেও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন মোস্তফার স্ত্রী শামসুন নাহার।