পাহাড়ের গভীর খাদ থেকে যেভাবে উদ্ধার হলো আশুতোষের লাশ

গভীর খাদ থেকে লাশ উদ্ধার করে সমতলে নামিয়ে আনছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে একটা গাছের সঙ্গে আটকে ছিল সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আশুতোষ নাথের (৪৫) লাশ। পাহাড়ের যে সিঁড়ি থেকে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওই স্থান প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পানিঘাটা এলাকার অনেক ওপরের একটি খাদ থেকে স্ট্রেচার ও দড়ির সাহায্যে লাশটি উদ্ধার করেন সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে লাশটি থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তাঁরা।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুতোষ নাথের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা শিবচতুর্দশী মেলা কমিটি ও পুলিশকে খবর দেন।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জায়গাটি এত দুর্গম যে লাশের কাছে যাওয়ার জন্য কোনো বিকল্প পথ ছিল না। ফলে তাঁদের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দড়ি বেয়ে নিচে নামেন। আশপাশে বিকল্প পথ খুঁজে না পেয়ে লাশটি স্ট্রেচারে রেখে দড়ি বেঁধেই ওপরে তোলেন। লাশ ফুলে প্রায় বিকৃত হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিন দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে গত শুক্রবার থেকে তিন দিনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিবচতুর্দশী মেলা শুরু হয়। প্রতিবছর এ মেলা তিন দিনের হলেও এবার তিথির কারণে মেলা চলে চার দিন। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০ লাখের বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ভারতসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পুণ্যার্থীরা।

গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চন্দ্রনাথ ধাম থেকে নামার পথে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে থাকা একটি সিঁড়ি ভেঙে খাদে পড়ে দুই তীর্থযাত্রী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা পাহাড়ে ওঠানামার পথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বিকল্প পথ ইকোপার্ক সড়ক হয়ে তীর্থযাত্রীদের নামানো হয়। ওই সময় দুই তীর্থযাত্রী নিহত হওয়ার বিষয়টি ‘গুজব’ বলে দাবি করেছিল পুলিশ ও মেলা কমিটি।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাঁদের ধারণা, আশুতোষ দুদিন আগে মারা গেছেন। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্ত করার জন্য লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সীতাকুণ্ড থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

দুই তীর্থযাত্রী নিহত হওয়ার খবর ‘গুজব’ দাবি করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তিনি তখনো গুজব বলেননি। তবে তাঁর কাছে কেউ সুস্পষ্টভাবে তথ্য দিতে পারেনি।

সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনে সীতাকুণ্ড থানায় চারজন নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার হলো। এখনো নিখোঁজ আছেন তিনজন, যাঁদের মধ্যে দুজন নারী।