গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন। ১ মাস ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় শিবিরের দুই নেতা–কর্মীর মৃত্যু হলো।
সালাউদ্দিনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান।
গত ২১ জুন বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার শিকার হন সালাউদ্দিন। একই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নিহত হন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ওরফে মুকুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়।
হামলাকারী ব্যক্তিরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাঁকেও ধাওয়া করে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে গলায় আঘাত করা হয়। পরে হামলাকারী ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে চলে যান বলে অভিযোগ আছে।
এর কিছুক্ষণ পর বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন মোখলেছুর রহমানসহ ১০ থেকে ১২ জন তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারী ব্যক্তিরা সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। সাইফুল্লাহ এগিয়ে এলে তাঁকেও ধাওয়া করে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে গলায় আঘাত করা হয়। পরে হামলাকারী ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে করে চলে যান বলে অভিযোগ আছে।
স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে মোখলেছুর রহমানকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করে জেলা যুবদল।
সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমানসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।