সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসানের মা দেলোয়ারা একরাম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসানের মা দেলোয়ারা একরাম

সাদ্দামের মায়ের প্রশ্ন

‘বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, এই জামিন দিয়ে কী হবে?’ 

কারাফটকে মৃত স্ত্রী-সন্তানকে শেষ বিদায় জানানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের জামিনের খবরেও কোনো উচ্ছ্বাস নেই পরিবারে। তাঁরা বলছেন, স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে?

বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী আছেন সাদ্দাম। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় আজ সোমবার তাঁকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হওয়ার পর তাঁর জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৮৮ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আগে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন তিনি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম

জামিনের পর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকেরা গেলে সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, ‘আমি এখন কী বলব, জামিন হইছে, আগেও জামিন চাইছি। আগে কয়েকবার জামিন হয়েছে কিন্তু বের হতে পারেনি। এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া সমান কথা। তারপরও জামিন হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে–বউয়ের কবর, তাহলে এই জামিন দিয়ে কী হবে?’

সাদ্দামের জামিনের খবরে ‘সন্তোষ প্রকাশ’ করে তাঁর শ্বশুর জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা প্যারোলে জামিন চেয়েছিলাম, সেই জামিন না দেওয়া অমানবিক বা মানবিক কাজ হয়েছে, সেই বিচার চাই রাষ্ট্রের কাছে।’

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামদের বাড়ি থেকে স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তাঁর ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে দুজনের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের পর বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান জুয়েল হাসান। তবে সে সময়ও সক্রিয় ছিলেন ফেসবুকসহ দলীয় কর্মকাণ্ডে। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।

স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদনপত্র লিখে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও জেলখানায় যান সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা আবেদন করেছি, কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন এই জামিনের জন্য আমরা সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন বলেন, ‘এই জামিন দিয়ে কী হবে। এ দেশে সব নাটকীয়তা।’