
শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তোলার ব্যাপারে আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত এক ছটাক বালু-পাথরও এদিক-সেদিক করা যাবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী এ কথা বলেন। এ সময় যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, যাঁরা বালু-পাথর লুটপাটে জড়াবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মতবিনিময়ের সময় সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী এলাকার কোয়ারিগুলো থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন না করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
বালু, পাথর লুটপাট ঠেকানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাড়তি পুলিশ ফোর্স দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিজিবি থেকেও একটি প্লাটুন দেওয়া হবে। এখানের (পাথর কোয়ারি) জন্য দু-এক দিনের মধ্যে হয়তো আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে জায়গায় বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারেন।’
বালু-পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কোম্পানীগঞ্ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কোনো প্রভাবশালী-টভাবশালী, এই-সেই, আপনি ধরে আমারে খবর দিয়েন যে আমি ধরেছি। পরবর্তী যেটা দেখার, আমি দেখব। অমুকের ছত্রচ্ছায়ায়, অমুকের শেল্টারে এসব শুনতে চাই না। গভীর রাতে চোর-পুলিশ খেলা হলে গভীরভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাত গভীর থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ টেরও পাবে না।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিলেটের কোয়ারি থেকে পাথর চুরি শুরু হয়। ধীরে ধীরে লুটপাট বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রীতিমতো গণলুট হয়। এ সময়ে দেশ-বিদেশে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত সাদাপাথরের প্রায় ৮০ শতাংশ পাথর লুটপাট হয়।