হবিগঞ্জে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে
হবিগঞ্জে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে

বাস চলাচল নিয়ে বিরোধ, হবিগঞ্জে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা ও মালিক-শ্রমিক বিরোধের জেরে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। ধর্মঘটের কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। একই দিন এ বিষয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

আবু মঈন চৌধুরী বলেন, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাস চলাচলে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে আজ ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর জেরে হবিগঞ্জের পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা শায়েস্তাগঞ্জে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সমাধানের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে এরপরও বাস আটকের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

তবে বাস আটকে রাখা বা শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রব। তিনি বলেন, তাঁরা কোনো বাস আটক বা শ্রমিকদের মারধর করেননি। তবে যাত্রী ওঠানো বা নামানো নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে।